নিজস্ব প্রতিবেদক:

মাঝে মধ্যেই দেশে ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে যায়। এ বাড়তি দামের পেছনে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির পাশাপাশি ভোজ্যতেলে তিন স্তরে ভ্যাট পদ্ধতিকেও দায়ী করা হয়। আমদানি, উৎপাদন ও বিপণন – তিন স্তরে তিন দফায় ভ্যাট নেওয়া হয় ভোজ্যতেলের ওপর। নিত্য পণ্যের বাজার ও ভোজ্যতেলের দাম উর্ধ্বমুখী হওয়ায় উৎপাদকেরা বলছেন, পণ্যটির ওপর পূর্বের ন্যায় এক স্তরে ভ্যাট চালু করা হোক।

আগে ভোজ্যতেলে একস্তরে শুধু আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিলেই হত। ২০১৩-১৪ অর্থবছর থেকে ৩০ জুন, ২০১৯ পর্যন্ত এ সুযোগ বহাল ছিল। কিন্তু জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সিদ্ধান্তে এরপর থেকে সেটি তুলে নেয়া হয়।

এক স্তরে ভ্যাট নেয়ার ব্যবসায়ীদের এ দাবিকে যৌক্তিক বলেও মনে করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত সপ্তাহে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে চিঠিতে একস্তরের ভ্যাট আদায়ের পদ্ধতিতে একটা গ্রহণযোগ্য সিলিং নির্ধারণ করে দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

ভোজ্য তেল হিসেবে দেশে সয়াবিন ও পাম অয়েলের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। পণ্যটি আমদানিনির্ভর এবং আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় তিন স্তর পদ্ধতিতে ভ্যাটের  হার ঠিক রাখা যাচ্ছে না। এর প্রভাব পড়ছে স্থানীয় বাজার বা সাধারণ ভোক্তাদের উপর।

অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেলের আমদানি পর্যায়ে বর্তমানে দেশে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ছাড়াও ৫ শতাংশ অগ্রিম কর রয়েছে। উৎপাদন পর্যায়েও মূল্য সংযোজনের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হচ্ছে। এছাড়া ব্যবসায়ী পর্যায়ে মূল্য সংযোজনের ওপর ১৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন এই সিলিং নির্ধারণ প্রসঙ্গে বলেছে, শুধুমাত্র আমদানি পর্যায়ে অপরিশোধিত প্রতি টন ভোজ্যতেলের ওপর একস্তরে ১৬ হাজার টাকা ভ্যাট নির্ধারণ করা যেতে পারে।

বেশকিছুদিন ধরে ভোজ্যতেলের বাজারে উর্ধ্বগতি চলছে। বিশ্ববাজারে উর্ধ্বগতির কারণ দেখিয়ে উৎপাদকেরা মোড়কজাত ও খোলা সব ধরনের তেলের দাম লিটারে বাড়িয়ে দিয়েছেন ১০ থেকে ১৫ টাকা। করোনাকালে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতা-ভোক্তা। পরিস্থিতি সামলাতে সরকারকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। শেষ পর্যন্ত খোলা তেলে দাম লিটারে দুই টাকা কমানো হলেও বোতলজাতে দাম অপরিবর্তিতই থেকে যায়।

ট্যারিফ কমিশন ও বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সূত্রমতে, দেশে ছোট-বড় ১২টি উৎপাদক ও পরিশোধন কিংবা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভোজ্যতেলের বাজারে প্রতিনিধিত্ব করছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশে বছরে ৮ লাখ টন অপরিশোধিত সয়াবিন ও ১২ লাখ টন পরিশোধিত ও অপরিশোধিত পাম তেল আমদানি করা হয়। অপরিশোধিত সয়াবিনের ৩০ ভাগ প্যাকেটজাত মোড়কে এবং ৭০ শতাংশ খোলা অবস্থায় বাজারজাত হয়। আর পামতেলের ১০ ভাগ প্যাকেটজাত এবং ৯০ শতাংশ খোলা বাজারজাত হয়।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন এক স্তরে ভ্যাট নির্ধারণে উৎপাদকদের পাঠানো প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে দেখেছে। কমিশন জানিয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে দাম অনুযায়ী প্রতি টন অপরিশোধিত সয়াবিনে সর্বোচ্চ ৮৫০ ডলার ও অপরিশোধিত পাম অয়েলে ৮০০ ডলার মানদণ্ড ধরে এক স্তরে ভ্যাট নির্ধারণ সম্ভব।’

সূত্র:-নিউজবাংলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *