নিজস্ব প্রতিবেদক :

আজ থেকে ৩০ বছর আগে কক্সবাজার শহরের বিমানবন্দর এলাকার ফসলি জমির দাম ছিল প্রতি গণ্ডা ৩০ হাজার টাকা, ভিটে বাড়ির জমির দাম ছিল ৩৬ হাজার টাকা। কিন্তু বর্তমানে সেই জমির দাম প্রতি গণ্ডা ৭২ থেকে ৭৪ লাখ টাকা।

বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নে অধিগ্রহণ করা সেই জমিগুলোর তিনগুণ দাম পেয়েছেন প্রকৃত জমির মালিকেরা।

এ প্রকল্পের মধ্য দিয়ে দেশের ৪র্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যাত্রা শুরু হচ্ছে কক্সবাজারে। যেখানে ১ হাজার ৩শ ফুট রানওয়ে হবে সমুদ্রের ওপর। এটি হবে দেশের একমাত্র দীর্ঘতম রানওয়ে এবং দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় রানওয়ে সমৃদ্ধ বিমানবন্দর।

এই বিমানবন্দর বর্ধিত করার জন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একদিনে ১১১ কোটি ২৫ হাজার ৮০২ টাকা অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিতরণ করা হয়।

প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম (উপসচিব) বলেন, ‘কক্সবাজারের এই বিমানবন্দরকে দেশের নামকরা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে রূপান্তর করা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন। সেই চিন্তায় বিমানবন্দর এলাকার আশেপাশের ৩২৩ একর জমি তিনগুণ মূল্যে প্রথম পর্যায়ে অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’

জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘গত ৫ বছরে ১১১ কোটি ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা সরকারি ব্যাংকে পড়ে থাকায় লাভসহ বিমানবন্দরে দেয়া জমির ক্ষতিগ্রস্তরা হাতে পেয়েছেন।’

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনগুণ ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেশের উন্নয়নের জন্য বিমানবন্দর প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এক সময়ের অনুন্নত জায়গা এখন কোটি কোটি টাকায় অধিগ্রহণ হচ্ছে। এতো দামে ভূমি অধিগ্রহণ এটা অবশ্য কক্সবাজারবাসীর জন্য সৌভাগ্যের ব্যাপার। এখন থেকে ৩০ বছর আগেও এই জমি কেউ কিনতে চায় নি লোকসানের ভয়ে। তখন প্রতি গণ্ডা নামে মাত্র ৩০ হাজার টাকায় ক্রয়-বিক্রয় হতো কিন্তু এখন বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য তিনগুণ দামে অর্থাৎ প্রতি গণ্ডা ৭৪ লাখ টাকায় কিনছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একসময় পোকা মাকড়ের ভয়ে যেখানে মানুষ যেতে ভয় পেতো সেখানে আজ দেশের দীর্ঘতম রানওয়ের বিমানবন্দর টার্মিনাল হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের উন্নীত করার প্রকল্পের জন্য ২২ একর জমি অধিগ্রহণ এবং এই খাতে ৩৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। আজ রোববার (২৯ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রানওয়ে সম্প্রসারণ কাজের উদ্বোধন করবেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *