আবু নাসের,কুলাউড়া:

গতকাল সন্ধায় মাত্র ৩হাজার টাকার বিনিময়ে ২০ বছরের তরুণী মেয়েকে ৩ বখাটের হাতে তুলে দিল সৎবাবা ইমরান হোসেন।

এ ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মনছড়া এলাকার কাদির মিয়ার বাড়িতে।

এ ঘটনায় কুলাউড়া থানায় ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেছে ভূক্তভোগী তরুনী।

তরুণীর অভিযোগ পত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তরুণীটির বাবার মৃত্যুর পর তার মা বিয়ে করেন অভিযুক্ত ইমরানকে সে ঘরে তার আরেক ভাইয়ের জম্ম হয়। গত দশ বছর আগে তরুণীর মারও মৃত্যু হয়। এরপর ইমরান আরেক বিয়ে করেন এবং তাদের ছেড়ে পরের স্ত্রীকে নিয়ে কুলাউড়ায় বসতি গড়েন।

ইমরানের বর্তমান স্ত্রীর আমন্ত্রণে সপ্তাহ খানেক আগে ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে নোয়াখালীর
সোনাইমুড়ি উপজেলা থেকে কুলাউড়ায় আসেন তরুণী।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তরুণীকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে আসে ইমরান। পৌর শহরের স্টেশন রোডে নিয়ে তিন হাজার টাকার বিনিময়ে তরুণীকে কাশেম আলীর হাতে তুলে দেয় ইমরান। সেখান থেকে কাশেম ও তার সহযোগী আরজান এবং পাপ্পু তরুণীকে সিএনজিযোগে উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মনছড়া এলাকার কাদির মিয়ার বাড়িতে নিয়ে যায়।

সেখানে আটকে রেখে তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে কাশেম, আরজান এবং পাপ্পু।এরপর রাতে তরুণীর চিৎকার শুনতে পেয়ে স্থানীয়রা ধর্ষকদের আটক করে পুলিশে খবর দেন।

এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণীকে উদ্ধার করে এবং তিন ধর্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় মুলহোতা তরুণীর সৎবাবা ইমরান হোসেন পলাতক থাকায় এখনো তাকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হল- উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের কুটাগাঁও গ্রামের সৈয়দ আলীর ছেলে কাশেম আলী (২৩), গাজীপুরের গাংপাড় এলাকার আসকর আলীর ছেলে আরজান আলী ও গাজীপুরের মাস্টার দোকান এলাকার ঝন্টু সুত্রধরের ছেলে রাজেশ সুত্রধর পাপ্পু (২১)।

কুলাউড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সনক কান্তি দাশ জানান, এ ঘটনায় তরুণীটির লিখিত অভিযোগের বৃত্তিতে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মেডিকেল পরীক্ষার জন্য তরুণীকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *