নিজস্ব প্রতিবেদক,খুলনা:


নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২ হাজার ৯৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে। নতুন মৃতদের মধ্যে সর্বাধিক ১০ জন মৃত্যুবরণ করেছেন খুলনা বিভাগে। এরপরে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ। এই বিভাগে মৃত্যুবরণ করেছেন নয়জন।

এদিকে খুলনা বিভাগে সর্বাধিক মৃত্যুবরণের পাশাপাশি সর্বাধিক সংখ্যক আক্রান্ত হয়েছে। এ বিভাগে একদিনে এক হাজার ৫৪৫ জনের মধ্যে ৫৫৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। পরীক্ষার বিপরীতে ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ শনাক্ত হয়েছে।

আজ বুধবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। কোন বিভাগের কোন জেলায় নতুন কতজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে, তা তুলে ধরা হলো-

ঢাকা বিভাগ : ঢাকা জেলা ও মহানগরে মোট নয় হাজার ৯৮টি নমুনার মধ্যে ৫৩১ জন, ফরিদপুরে ১৫৩টির মধ্যে ২৮ জন, গাজীপুরে ২৪৭টির মধ্যে ৪৮ জন, গোপালগঞ্জে ৭৭টির মধ্যে ৩০ জন, কিশোরগঞ্জে ২২৭টির মধ্যে ১১ জন, মাদারীপুরে ২৭টির মধ্যে দুজন, মানিকগঞ্জে ৫৩টির মধ্যে তিনজন, মুন্সীগঞ্জে ৪৮টির মধ্যে ১১ জন, নারায়ণগঞ্জে ১৬০টির মধ্যে ১২ জন, রাজবাড়ীতে ২৯টির মধ্যে পাঁচজন এবং টাঙ্গাইলে ১৩০টির মধ্যে ৪০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শরীয়তপুর জেলার কোনো পরিসংখ্যান দেয়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। করোনা শনাক্তের হার ৭ দশমিক ০৩ শতাংশ।

ময়মনসিংহ বিভাগ : ময়মনসিংহ জেলায় ৪০৮টি নমুনার মধ্যে ৩১ জন, নেত্রকোনায় ৮৮টির মধ্যে আটজন, জামালপুরে ৮৩টির মধ্যে ১৫ জন ও শেরপুরে ৬৬টির মধ্যে ১১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনা শনাক্তের হার ১০ দশমিক ২ শতাংশ।

চট্টগ্রাম বিভাগ : চট্টগ্রাম জেলায় ৪০৮টি নমুনার মধ্যে ৩১ জন, কক্সবাজারে ৪০২টির মধ্যে ২৮ জন, রাঙামাটিতে ৪৫টির মধ্যে একটি, খাগড়াছড়িতে তিনটির মধ্যে তিনজন, ফেনীতে ৮৬টির মধ্যে ১৩টি, নোয়াখালীতে ৩৫০টির মধ্যে ৮০ জন, চাঁদপুরে ১১৭টির মধ্যে ১৬ জন, কুমিল্লায় ২৩২টির মধ্যে ২২ জন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০টির মধ্যে একটি। বান্দরবান জেলার করোনার কোনো পরিসংখ্যান দেয়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। করোনা শনাক্তের হার ১১ দশমিক ৭ শতাংশ।

রাজশাহী বিভাগ : রাজশাহী জেলায় এক হাজার ৭৪৪টির মধ্যে ৩৫৩ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪০২টির মধ্যে ৬৫ জন, নাটোরে ২৩০টির মধ্যে ৪৪ জন, নওগাঁয় ৫১৮টির মধ্যে ৮৮ জন, পাবনায় এক হাজার তিনটির মধ্যে ১৩ জন, সিরাজগঞ্জে ১৬০টির মধ্যে ১৩ জন, বগুড়ায় ১৬০টির মধ্যে ২৩ জন ও জয়পুরহাটে ১৯৪টির মধ্যে ৪২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনা শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ।

রংপুর বিভাগ : রংপুর জেলায় ১১৮টি নমুনার মধ্যে ৩৪ জন, পঞ্চগড়ে ১৮টির মধ্যে তিনজন, নীলফামারীতে ২৩টির মধ্যে সাতজন, লালমনিরহাটে ৪৩টির মধ্যে ১৬ জন, কুড়িগ্রামে সাতটির মধ্যে পাঁচজন, ঠাকুরগাঁওয়ে ৫১টির মধ্যে ৩০ জন, দিনাজপুরে ১২৯টির মধ্যে ৩৩ জন ও গাইবান্ধায় ২০টির মধ্যে তিনজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনা শনাক্তের হার ৩২ দশমিক ১ শতাংশ।

খুলনা বিভাগ : বাগেরহাট জেলায় ১৫৫টি নমুনার মধ্যে ৬৮ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৬৫টির মধ্যে ১৯ জন, যশোরে ৩২৩টির মধ্যে ১৪৩ জন, ঝিনাইদহে ৬২টির মধ্যে ১৭ জন, খুলনায় ৩৩১টির মধ্যে ৮০ জন, কুষ্টিয়ায় ২২২টির মধ্যে ৬৭ জন, মাগুরায় ৫৮টির মধ্যে ১৩ জন, মেহেরপুরে ৭১টির মধ্যে ১৩ জন, নড়াইলে ৭৬টির মধ্যে ২৯ জন ও সাতক্ষীরায় ১৮২ জনের মধ্যে ১০৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনা শনাক্তের হার ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ।

বরিশাল বিভাগ : বরিশাল জেলায় ১১৬টি নমুনার মধ্যে ৩৪ জন, পটুয়াখালীতে ৫০টির মধ্যে কেউ শনাক্ত হয়নি, ভোলায় ৩২টির মধ্যে তিনজন, পিরোজপুরে সাতটির মধ্যে পাঁচজন, বরগুনায় ৫৩টির মধ্যে একজন ও ঝালকাঠিতে ১০টির মধ্যে ছয়জনের শনাক্ত হয়েছে। করোনা শনাক্তের হার ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ।

সিলেট বিভাগ : সিলেট জেলায় ৩৭২টি নমুনার মধ্যে ৬৯ জন, সুনামগঞ্জে ২১টির মধ্যে দুজন, হবিগঞ্জে ৩৮টির মধ্যে পাঁচজন ও মৌলভীবাজারে ৭০টির মধ্যে ছয়জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনা শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। ওই বছরের ১৮ জুন তিন হাজার ৮০৩ জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার মধ্যে দিয়ে লাখ ছাড়িয়েছিল করোনার রোগী। সেদিন পর্যন্ত মোট শনাক্ত ছিল এক লাখ দুই হাজার ২৯২ জন। এ ছাড়া দেশে করোনাভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে গত বছরের ১৮ মার্চ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *