আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সম্প্রতি আবারও হোয়াইট হাউজে ফিরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর তার প্রথম সাক্ষাৎকারেই ডেমোক্রেট প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে তীব্র বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।

পুরোনো শত্রুদের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক দাবির পাশাপাশি নিজের ‘কথিত’ সুস্থ হয়ে ওঠা নিয়েও মাতামাতি করেছেন তিনি।

ট্রাম্পের বক্তব্য অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের জনস্বাস্থ্য নিয়ে তার প্রশাসনের মারাত্মক অব্যবস্থপনা লুকাতে পারেনি। মহামারি পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে তার ধারাবাহিক অস্বীকৃতিও তার প্রতি জন-সমর্থন হ্রাস করেই চলেছে। প্রাক-নির্বাচনী বেশকিছু নিরপেক্ষ জরিপে ইতোমধ্যেই তাকে প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের তুলনায় অনেকটা পিছিয়ে পড়তে দেখা গেছে।

এরমধ্যেই বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ফক্স বিজনেস চ্যানেলের এক অনুষ্ঠানে হোয়াইট হাউজ থেকে অংশ নেন ট্রাম্প। ফোনালাপের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ওই সাক্ষাৎকারেই উত্তেজিত হয়ে প্রতিপক্ষের প্রতি ক্ষোভের ঝুলি খুলে বসেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি।

এসময়, ফোনে ট্রাম্পের কণ্ঠ বেশ কর্কশ শোনায়। খবর সিএনএনের।

ট্রাম্প জানান, তিনি অচিরেই নির্বাচনী প্রচারণায় ফিরতে চান। একইসঙ্গে, তার মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানোর আর কোনো ঝুঁকি নেই বলেও দাবি করেন।

অথচ মাত্র এক সপ্তাহ আগেই তার শরীরে প্রাণঘাতি জীবাণুটির সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

পাশাপাশি ডেমোক্রেট দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেনের সঙ্গে ভার্চুয়াল বিতর্কে অংশ নিতে আগ্রহী নন, এমন কথাও বলেছেন। ভার্চুয়াল বিতর্কের উপস্থাপক এর ফলে সহজেই তার বক্তব্যের মাঝে দিতে পারবেন, বলে অজুহাত দেন তিনি। কম্পিউটারের সামনে বসে ভার্চুয়াল বিতর্কের ধারণাকে তিনি ‘উদ্ভট’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

আগের সপ্তাহের রোববার হোয়াইট হাউজে যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনা সদস্যদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন, সাক্ষাৎকারের সময় এমন ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। অথচ মাস্ক না পরেই সুপ্রিম কোর্টের নতুন বিচারপতি ঘোষণার সময়ও যে তিনি আক্রান্ত হতে পারেন, সেকথা একদম গোপন করে গেছেন।

অথচ ওই ঘোষণার অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজন ইতোমধ্যেই সংক্রমিত বলে শনাক্ত হয়েছেন।

সেনা পরিবারের সদস্যদের সম্মানে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গে বলেন, ”তাদের সবাই আমাকে দারুণ পছন্দ করেন। তারা আমাকে জড়িয়ে ধরতে চান, চুমু দিতে চান। আর সত্যি বলতে কী আমিও তাদের বাধা দেইনি। তাদের নিরাশ করতে চাইনি।”

অথচ নির্বাচন পূর্ব এ সাক্ষাৎকারে জননীতি সম্পর্কে আলোচনাকে একদমই প্রাধান্য দেননি।

সূত্র:-সিএনএন, টিবিএস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *