ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

জেলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এক নববধূর লাশ ফেলে তার স্বামী ও শশুর বাড়ির লোকেরা পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

নিহত নববধূটির নাম শিল্পী আক্তার (১৮)  তার স্বামীর নাম ওমর ফারুক (২৬)।

হাসপালটির চিকিৎসকরা জানান, সেমবার রাতে নিহত শিল্পীকে ভ্যান যোগে হাসপাতালে নিয়ে আসে স্বামী ফারুক ও তার পরিবারের লোকজন। কর্তব্যরত চিকিৎসক শিল্পীকে দেখে মৃত ঘোষনা দেয়ার পর লাশ রেখে হাসপাতাল থেকে পালায় ফারুক ও তার পরিবার।

পরবর্তিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানালে শিল্পীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ওই হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ৩ মাস আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলায় চান্দুরা ইউনিয়নের জালালপুর মতি মেম্বারের বাড়ির মৃত তালেব আলীর ছেলে ওমর ফারুক ও শিল্পীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক কলহ শুরু হয় ফারুক-শিল্পী দম্পতির। গত কয়েকদিন ধরেই তাদের মধ্যে ঝগড়া চলছিল।

সোমবার বিকেলে বাসায় ফিরে শিল্পীকে ঘরের বিছানার ওপর অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন ফারুক। এসময় তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিলো। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসার জন্য স্বামী ও পরিবারের লোকেরা তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।

সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শিল্পীকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর থেকে স্বামী ফারুক ও তার পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি।

নিহতের দুলাভাই নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, শিল্পীর বিয়ের পর থেকে শুধু মারধর করতেন তার স্বামী ফারুক। প্রায় সময় ফারুকের বোনের সাথে কথা-কাটাকাটি হতো শিল্পীর।

তাদের পারিবারিক অত্যাচার সহ্য না করতে পেরে সোমবার সকালে বাপের বাড়িতে যাওয়ার পথে ফারুক জোরপূর্বক তাকে নিয়ে আসে। বিকেলে শিল্পীকে বিষপান করিয়ে হত্যা করা হয়।

বিজয়নগর থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, নিহতের মুখে ফেনা ও বিষের গন্ধ রয়েছে। তবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *