নিজস্ব প্রতিবেদক,চট্রগ্রাম:

চট্রগ্রামে অপহরণের শিকার সাংবাদিক গোলাম সরওয়ার তাকে আটকে রেখে নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, আমাকে অপহরণের পর  একটি রুমে আটকে রেখে টানা সাত-আট ঘন্টা মারধর করেছে। নির্যাতনকালে তারা বার বার বলে ‘আর নিউজ করবি কি না বল? এবং বলে তোদের কোনো নিরাপত্তা নাই, তোরা কী করতে পারবি? কিন্তু কোন নিউজের কারণে আমাকে অপহরণ করা হয়েছে, তা বলতে পারছি না। “মারধরের সময় ওই ঘরে থাকা লোকজন বাইরের কারও সঙ্গে ‘স্যার’ সম্বোধন করে মোবাইল ফোনে কথা বলছিল। মোবাইলে একজন বলতে শুনলাম ‘স্যার রাখব নাকি ফেলে দিব?’ অন্য প্রান্ত থেকে বলে, ফেলতে হবে না, তারে দিয়ে অন্যদের থ্রেট দেওয়া দরকার।

সারওয়ার বলেন, আমাকে কোন জায়গায় আটকে রাখা হয়েছিল, তাও বুঝতে পারিনি। তবে যেখানে আটকে রেখেছিল, সেখান থেকে ট্রেনের শব্দ শোনা গেছে।

সাংবাদির গোলাম সরওয়ার তার সহকর্মীদের এমনটাই বর্ণনা দিলের হাসপাতালে চিকিৎসাদিন অবস্থায়।

গত বুধবার রাতে নগরের বাসা থেকে বের হয়ে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন তিনি। সাপ্তাহিক আজকের সূর্যোদয় চট্টগ্রাম অফিসের নিজস্ব প্রতিবেদক গোলাম সরওয়ারকে গত রবিবার সীতাকুণ্ড থেকে অস্বাভাবিক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সরওয়ার গতকাল সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।

সরওয়ার বলেন, ‘চন্দনাইশ উপজেলায় নিজ বাড়িতে যাওয়ার জন্য বুধবার রাত ১২টার দিকে নগরীর ব্যাটারিগলির বাসা থেকে বের হই। বাস ধরতে শাহ আমানত সেতু এলাকায় যাওয়ার জন্য ১০০ টাকায় একটি ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে উঠি। সেখানে আরেকজন লোক উঠে আমাকে অজ্ঞান করে নিয়ে যায়। মোটরসাইকেল থেকে আরেকটি অ্যাম্বুল্যান্স জাতীয় কোনো গাড়িতে করে আমাকে কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়। একটি বাসায় নিয়ে চোখ বেঁধে মারধর করা হয়।’

সরওয়ার আরও জানান, যে বাসায় আমাকে আটকে রাখা হয়েছিল, সেখানে চারজন ছিল। তাদের মধ্যে একজন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় আর অন্যরা শুদ্ধ বাংলায় কথা বলছিল। আমাকে ধরে অজ্ঞাত একটি স্থানে নিয়ে শরীরে কাপড় জাতীয় কিছু একটা মুড়িয়ে কাঠের তক্তা ও বেল্ট দিয়ে মারধর করা হয়েছিল। চার দিনের মধ্যে দুই দিন তারা আমাকে মারধর করে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *