নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশ জালিয়াতির অভিযোগে এজেআর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডিএমপি কমিশনার, ডিআইজিসহ বিভিন্ন সরকারি অফিস ও গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা প্রধানের নকল সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে দেশব্যাপি কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল।

পুলিশ জানায়,তাদের গ্রেপ্তারের সময় কুরিয়ার সার্ভিস পরিচালনার ভুয়া কাগজপত্র ও জালিয়াতির বিভিন্ন ডকুমেন্ট জব্দ করা হয়। কুরিয়ার সার্ভিসের ওই পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারি গ্রেপ্তার হলেও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. সামসুদ্দিন আহমেদ রিয়াদ (৪৫) পালিয়েছে।

অভিযানে গ্রেফতারকৃতরা হলেন, কুরিয়ার সার্ভিসটির জেনারেল ম্যানেজার মো. মাহাবুবুর রহমান,আব্দুল মান্নান , গিয়াস উদ্দিন, সেলিম দেওয়ান ও আল আমিন।

ঘটনার সূত্রপাত জানান, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এয়ারপোর্ট জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার তাপস কুমার দাস।

তিনি বলেন, এজেআর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানটি উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের একটি ভাড়া বাড়িতে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। আবাসিক এলাকায় ব্যবসা পরিচালনাকে কেন্দ্র করে ৬ নম্বর সেক্টরের কল্যাণ সমিতির সঙ্গে তাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়।

এ বিরোধেকে কেন্দ্র করে এজেআর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে ডিএমপি কমিশনার বরাবর অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগ তদন্তে অভিযোগকারী, অভিযুক্ত, সাক্ষীদের সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র নিয়ে হাজির হয়ে জবানবন্দি দেওয়ার জন্য নোটিশ করা হয়।

নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে কুরিয়ার সার্ভিসের জেনারেল ম্যানেজারসহ পাঁচজন তাদের কাগজপত্রসহ হাজির হয়ে বিভিন্ন অনুমতিপত্র দেখাতে থাকলে সেখানে দেখা যায়, ডিএমপি কমিশনার, ডিআইজি হাইওয়ে পুলিশ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি অফিস সংস্থার দেওয়া এজেআর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিসের ভ্যান-পিকআপ সমগ্র বাংলাদেশে চলাচলের অনুমতিপত্র রয়েছে।

তবে উপস্থাপিত কাগজপত্রগুলো সন্দেহ হলে কাগজপত্রগুলো পর্যালোচনায় দেখা যায়,কুরিয়ার সার্ভিসটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডিএমপি কমিশনার, ডিআইজিসহ (ঢাকা রেঞ্জ) অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার ভুয়া সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *