নিজস্ব প্রতিবেদক,বগুড়া:

বগুড়ার কাহালুতে কলেজছাত্র আরমান হোসেন আন্না (১৯) হত্যা রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেম থাকায় তাকে মো. সুজনের মাধ্যমে ডেকে এনে গলায় রশি দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করেন স্বামী ওবাইদুর রহমান খান (৪০) ও তার সঙ্গীরা। হত্যার পর কলেজছাত্রের রাশ লাশ কবরস্থানে পুঁতে রাখেন ওবাইদুর।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুর রহমানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আসামি সুজন। এ ছাড়া আসামি ওবাইদুর রহমান খানের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়া লতিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, নিহত আরমান হোসেন আন্না কাহালুর ডোমরগ্রামের আজিজার রহমানের একমাত্র ছেলে। তিনি গাইবান্ধা সরকারি কৃষি ইন্সটিটিউটের সপ্তম সেমিস্টারে পড়তেন। করোনাভাইভাইরাসের কারণে গত কয়েক মাস ধরে বাড়িতে ছিলেন। এ সময় তার সঙ্গে একই গ্রামের ওবাইদুর রহমান খানের (৪০) স্ত্রীর সঙ্গে আন্নার পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ওবাইদুর তার স্ত্রীকে এ পরকীয়া থেকে ঠেকাতে না পেরে আন্নাকে আন্নাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

হত্যা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আন্নার বন্ধু জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার সাহালাপাড়া গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে মো. সুজনের (২২) সঙ্গে পরামর্শ করেন ওবাইদুর। সুজন ডোমরগ্রামের হিলারীর মুরগি ফার্ম ও পুকুরের পাহারাদার হিসেবে কাজ করেন। ওবাইদুর রোববার রাতে সুজনের মাধ্যমে আন্নাকে পুকুরপাড়ে ডেকে আনেন।

এরপর পরিকল্পনা অনুসারে ওবাইদুর, সুজন ও অজ্ঞাত আরও ২-৩ জন আন্নার গলায় রশির ফাঁস দিয়ে তাকে হত্যা করেন। পরে পাশের কবরস্থানে তারা লাশটি পুঁতে রাখেন। পরদিন সোমবার সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, নিহত আন্নার বাবা আজিজার রহমান কাহালু থানায় ওবাইদুর ও সুজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে হত্যা এবং লাশ গুমের মামলা করেন। পরে পুলিশ ওবাইদুর ও সুজনকে গ্রেপ্তার করে। আজ মঙ্গলবার সুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেন। এ ছাড়া আদালত ওবাইদুরকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *