ফারভেজ আলম,ঈশ্বরদী:

ঈশ্বরদী উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর গ্রামে স্ত্রী ঐশিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে জামাই জাহিদ হাসান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছে নিহত ঐশির মা সাহানারা বেগম।

আজ রোববার সকালে ঐশির মা মেয়ের জামাই জাহিদ ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

ঐশির মা জানান, তার মেয়ে ঐশিকে যৌকুকের জন্য জাহিদ ও তার পরিবারের লোকেরা পিটিয়ে হত্যা করেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জাহিদ ও তার পরিবারের লোকেরা গা ঢাকা দিয়েছে।

সাহানারা খাতুন জানান,পারিবারিক জীবনে আমার মেয়ে সুখের দেখা পায়নি। তার স্বামী জাহিদ বিয়ে করার পরও অন্য নারীর সাথে পরকিয়ায় আশক্ত ছিল। ঐশি তার বিরুদ্ধে বহুবার আমাদের কাছে নালিশ করে ছিল। আমরা জাহিদকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে সব সময় মিথ্যা বলে এডিয়ে যেত।

ঘটনার সবশেষ জাহিদের মানিব্যাগে রাখা অন্য নারীর ছবি নিয়ে তাদের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়, সে থেকেই জাহিদ ঐশির উপর যৌতুকের দাবিতে আরো বেপরোয়া হয়ে টাকা আদায়ে তার উপর শারিরিক নির্যাতন শুর করে এক পর্যায়ে আমরা জানতে পেরে জাহিদকে  আমরা বুজাই আর আমার মেয়েকে নির্যাতন  করতে না করি। কিন্তু পাসন্ড জাহিদ শেষ পর্যন্ত আমার মেয়েকে পিটিয়ে মেরেই ফেললো।

নিহত ঐশি ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চর-আওতাপাড়া গ্রামের মাহাবুল আলমের মেয়ে। ঐশির ৮ মাস বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।

ঐশির মা সাহানারা বেগম জানান, ২০১৯ সালের ২৫শে জানুয়ারি ঐশির বিয়ে হয় জাহিদের সঙ্গে। জাহিদ পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর গ্রামের ঘরামি মো. হারুনের ছেলে।

বিয়ের সময় প্রায় ৩ লাখ টাকা যৌতুক দেয়া হয়। কিন্তু জাহিদ ও তার পরিবারের আরও চাহিদা থাকায় তাদের দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হয়।

ঐশির মা আরও  জানান, মেয়ের সুখের কথা ভেবে কিছুদিন পর আরও এক লাখ ৭০ হাজার টাকা দিয়ে জামাই জাহিদকে মোটরসাইকেল কিনে দেয়া হয়।

এদিকে বিয়ের কিছুদিন পরই তাদের মেয়ে ঐশি তার পরিবারকে জানান, স্বামী পরকীয়ায় আসক্ত। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কলহ লেগেই থাকত।

ঐশির মা সাহানারা বেগম জানান, শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাহিদ তাদেরকে ফোন করে খবর দেন ঐশি গলায় ফাঁস দিয়েছে। তারা গিয়ে দেখেন বিছানায় মেয়ের নিথর দেহ। তারপরও তারা জীবিত থাকার আশা নিয়ে ঐশিকে উদ্ধার করে দ্রুত পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঐশিকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঐশির মা ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা অভিযোগ করে জানান, এটা একটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তারা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চান।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাসীর উদ্দিন লিখিত অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা। এরপর বাকি প্রদক্ষেপ নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *