নিজস্ব প্রতিবেদক:

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে দফায় দফায় শারীরিক নির্যাতন ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হচ্ছেন পুলিশের এএসপি নাজমুস সাকিব। বর্তমানে খাগড়াছড়ির এপিবিএন স্পেশালাইজড ট্রেনিং সেন্টারে কর্মরত আছেন তিনি। স্ত্রীর অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার প্রস্তাব জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতরের ডিসিপ্লিন ও প্রফেশনাল স্ট্যান্ডার্ড শাখা।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদর দফতরের সংশ্লিষ্ট বিভাগের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, এএসপি নাজমুস সাকিবকে গত ২৮ আগস্ট থেকে সাময়িক বরখাস্ত করতে পুলিশ সদর দফতর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোনও আদেশ এখনও খাগড়াছড়ির এপিবিএন স্পেশালাইজড ট্রেনিং সেন্টার কর্তৃপক্ষ পাননি। নাজমুস সাকিব সেখানেই সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে কর্মরত আছেন বলে  জানিয়েছেন ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রিপন কুমার মোদক।

তিনি বলেন, ‘আমরা পুলিশ সদর দফতর বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নাজমুস সাকিবকে সাময়িক বরখাস্তের কোনও আদেশ পাইনি। তিনি আমাদের এখানে কর্মরত আছেন।’

গত ৪ মে দফায় দফায় শারীরিক নির্যাতন ও জোর করে গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে রমনা থানায় মামলা দায়ের করেন নাজমুস সাকিবের স্ত্রী ইসরাত রহমান। মামলায় সাকিবের বাবা ও মাকেও আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পর দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন স্ত্রী ইসরাত রহমানের আইনজীবী ইশরাত হাসান।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের মামলায় অন্যান্য আসামির ক্ষেত্রে সরাসরি জেলে যেতে হয়। তিনি পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার ক্ষমতার প্রভাবে সেটা হচ্ছে না।’

উচ্চ আদালত সূত্রে জানা গেছে, নাজমুস সাকিব চার সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে আছেন। গত ১৮ আগস্ট বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি কেএম জাহিদ সারওয়ারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ তার জামিন মঞ্জুর করেন।

নাজমুস সাকিবের আইনজীবী মো. সাজেদুল ইসলাম ভূঁইয়া জামিনের বিষয়ে বলেন, ‘গত ১৮ আগস্ট হাইকোর্ট চার সপ্তাহের জন্য তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। ওই জামিনের মেয়াদ শেষ হলে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইতে বলা হয়েছে।’

ভুক্তভোগী ইসরাত রহমানের আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, ‘আসামি বাইরে থাকার কারণে বারবার হুমকি দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। বাদীকে মামলা তুলে নেওয়ার চাপ দিচ্ছে। হুমকির বিষয়ে পুলিশ সদর দফতর ও সংশ্লিষ্ট থানাকে একাধিকবার জানানো হয়েছে।’

পুলিশ সদর দফতরের সুপারিশ দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। তিনি বলেন, ‘আমরা শুনেছি নাজমুস সাকিবকে সাময়িক বরখাস্তের জন্য পুলিশ সদর দফতর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করবো, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি গ্রহণ করে তা দ্রুত কার্যকরের ব্যবস্থা নেবে।’

মামলার অভিযোগে থেকে জানা গেছে, তিন বছর আগে নাজমুস সাকিবের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কন্যা ইসরাত রহমানের। স্ত্রী ইসরাতের দাবি, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে শুরু হয় শারীরিক নির্যাতন। স্বামীর নির্যাতনে কয়েকবার হাসপাতালেও চিকিৎসা নিতে হয় তাকে। ২০১৯ সালের জুলাই মাসে তাকে জোর করে গর্ভপাত করানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন ইসরাত রহমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *