অনলাইন ডেস্ক:
সোমবার ভোরে এক অভিযানে সু চি সহ শীর্ষ নেতাদের আটক করা হয়। মিয়ানমারে বেসামরিক সরকার ও প্রভাবশালী সামরিক বাহিনীর মধ্যে দ্বন্দ্ব ও উত্তেজনার পর এ ঘটনা ঘটল।

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি এবং দেশটির ক্ষমতাসীন দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) মুখপাত্র মিও নয়েন্ট।

সোমবার ভোরে এক অভিযানে সু চি সহ শীর্ষ নেতাদের আটক করা হয়।

মিয়ানমারে বেসামরিক সরকার ও প্রভাবশালী সামরিক বাহিনীর মধ্যে কয়েকদিন ধরে চলমান দ্বন্দ্বের পর এ ঘটনা ঘটল।

টেলিফোনে এনএলডির মুখপাত্র নয়েন্ট রয়টার্সকে জানান, সু চি, প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট ও অন্যান্য নেতাদের ভোররাতের দিকে ‘ধরে নিয়ে’ যাওয়া হয়েছে।

“আমি আমাদের জনগণের উদ্দেশ্যে বলব আপনারা তাড়াহুড়োয় কোন পদক্ষেপ নেবেন না এবং আইন অনুযায়ী আচরণ করবেন”; এরপর তিনি নিজেও গ্রেপ্তার হতে পারেন বলে জানান।

রয়টার্স জানায় পরে তার সঙ্গে পরে আর যোগাযোগ করা যায়নি।

সোমবার ভোররাতের দিকে রাজধানী নাইপিদোর ফোন লাইনগুলোতে সংযোগ পাওয়া যাচ্ছিল না বলেও জানিয়েছে রয়টার্স ।

এরপরেই মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা জারি করে দেশটির সেনাবাহিনী। এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কমান্ডার-ইন-চিফ মিন অং হ্লেইংয়ের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়েছে।

রাজধানী নাইপিদো এবং প্রধান শহর ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

প্রধান প্রধান শহরগুলোতে মোবাইল ইন্টারনেট এবং কিছু টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম এমআরটিভি জানিয়েছে যে তারা কিছু ‘কারিগরি সমস্যার’ মুখে পড়েছে এবং তাদের সম্প্রচার বন্ধ রয়েছে।

গত বছর নভেম্বরের নির্বাচনে অং সান সুচির দল এনএলডি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। কিন্তু সেনাবাহিনী নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তোলে।

আজ সোমবার নব-নির্বাচিত সংসদের প্রথম বৈঠক হবার কথা, কিন্তু সেনাবাহিনী অধিবেশন স্থগিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।

নির্বাচনে কী হয়েছিল?

গত ৮ই নভেম্বরের নির্বাচনে এনএলডি পার্টি ৮৩% আসন পায় মিস সু চির বেসামরিক সরকারের প্রতি সর্বসাধারণের অনুমোদন হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

২০১১ সালে সামরিক শাসন শেষ হওয়ার পর এটি মাত্র দ্বিতীয় নির্বাচন ছিল।

তবে সামরিক বাহিনী নির্বাচনের ফলকে বাধাগ্রস্ত করে। তারা সুপ্রিম কোর্টে দেশটির প্রেসিডেন্ট এবং ইলেক্টোরাল কমিশনের প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে।

সম্প্রতি সামরিক বাহিনী নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলার পর থেকে সামরিক অভ্যুত্থানের শঙ্কা দেখা দিয়েছিল। তবে এই অভিযোগ নাকচ করে দেয় দেশটির নির্বাচন কমিশন।

বিবিসির দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া সংবাদদাতা জনাথান হেড জানিয়েছেন, যদিও গত সপ্তাহে সামরিক বাহিনী সংবিধান মেনে চলার অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছে তারপরও এটাকে পুরো মাত্রায় সামরিক অভ্যুত্থান বলেই মনে হচ্ছে। এক দশকেরও বেশি সময় আগে সংবিধান তৈরি করা হয়েছিল।

বিবিসির সংবাদদাতাআরও জানান, সংবিধান অনুযায়ী সামরিক বাহিনী্র উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা রয়েছে যার মাধ্যমে তারা জরুরী অবস্থা ঘোষণা করতে পারে । কিন্তু সু চির মতো রাজনৈতিক নেতাকে আটক করার ঘটনা উস্কানিমূলক এবং খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এমন পদক্ষেপ তীব্র বাঁধার মুখে পড়বে।

সুত্র:- টিবিএস

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *