নীলফামারী প্রতিনিধি:

নীলফামারী জেলার চিলাহাটি এবং জলপাইগুড়ির হলদিবাড়ীর আর্ন্তজাতিক সীমান্তে (নো-ম্যানস ল্যান্ডে) রেললাইন স্থাপনের কাজ শুরু করেছে ভারত। এতে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপনের মধ্য দিয়ে মেল-বন্ধন আরও দৃঢ় হতে যাচ্ছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে দেখা যায়, সীমান্তের আন্তর্জাতিক কাঁটাতারের বেড়া কেটে ফেলা হয়। ভারতীয় সামান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির উপস্থিতিতে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া কাটাসহ রেললাইন সম্প্রসারণের কাজ শুরু করে ভারতীয় রেল দফতর।

বাংলাদেশের ৫৬ বিজিবি লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মামনুর রশিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ভারতের উত্তর-পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ কর্মকর্তা সুভানন্দ চন্দ্রা জানান, ভারতীয় সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে দুই দেশের রেলপথ সংযোগস্থলে লাইন পাতানোর কাজ শুরু হলো। অচিরেই এই পথে বাংলাদেশ-ভারতের ট্রেন সরাসরি চলাচল শুরু করবে।

তিনি জানান, ৭৮২/২ এস আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারের কাছে ১৫ মিটার কাঁটা তারের বেড়া কেটে ফেলা হয়। ওই ১৫ মিটার জায়গা দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে পাতা হবে রেললাইন। সেখানে ভারতীয় রেল দফতর গেট তৈরি করবে। সাড়ে ছয় মিটার উঁচু ওই গেটের ওপর দিয়ে থাকবে কাঁটা তারের বেড়া। এর মধ্যে রেলরাইন পাতার জন্য বরাদ্দ থাকবে ১০ মিটার। আর ৫ মিটার জায়গা থাকবে সীমান্তরক্ষীদের যাতায়তের জন্য।

তিনি আরও জানান, চিলাহাটির সঙ্গে হলদিবাড়ীর রেলপথ যুক্ত করতে ২০০ মিটার জায়গা জুড়ে কাজ করতে হবে। সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডের দিকে ১৫০ মিটার ও কাঁটা তারের ওপারে ভারতের ৫০ মিটার লাইন তৈরি করলেই যুক্ত হবে ভারত-বাংলাদেশের এই রেলপথ। চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হবে এ কাজ।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ-ভারতের রেললাইন পাতার কাজ শুরু হয়। বৈশ্বিক করোনা মহামারিতে লকডাউনের কারণে এই বছরে জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ায় এই কাজ শুরু হয়।

কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে গত ২৮ আগস্ট চিলাহাটির জিরো পয়েন্টে আসেন রেলপথ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম সুজন এমপি। ওইদিন তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বর এই রেলপথ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হবে। আর করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ওই রেলপথ যোগাযোগের উদ্বোধন করবেন।

উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তান তৈরি হলেও ভারতের সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানের যাতায়াতের জন্য উত্তর পূর্ব ভারতের প্রাচীন এই রেলপথটি সচল ছিল। ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের সময় এই পথটি বন্ধ হয়। সেই সময় কলকাতা থেকে বাংলাদেশের চিলাহাটি হয়ে ভারতের হলদিবাড়ী স্টেশন হয়ে ট্রেনটি পৌঁছাতো শিলিগুড়ি পর্যন্ত।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *