নিজস্ব প্রতিবেদক,সিলেট:

সিলেটের আখালিয়ার কুমারগাঁও বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে গত ২৪ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎহীন সিলেট মহানগর ও আশপাশের এলাকা। যার ফলে পুরো শহরের বাসিন্দারা পড়েছেন সীমাহীন দুর্ভোগের কবলে।পানি সংকটের কারণে এরি মধ্যে পুরো অঞ্চল জুড়ে হাহাকার শুরু হয়েছে।

এ অঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) বিকেল থেকেই পানি সংকট শুরু হয়েছে পুরো নগরজুড়ে।গত রাত থেকে এ সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। বেশির ভাগ বাড়ি-ঘরে খাবার পানিও শেষ হয়ে গেছে।

এদিকে আজ বুধবার দুপুরে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশের উপসহকারী প্রকৌশলী মাসনুন আলম জানান, অগ্নিকাণ্ডে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশের একটি ট্রান্সফর্মার নষ্ট হয়ে গেছে। ধারণা করছি সেটা বিকালের মধ্যে রিপ্লেস করা যাবে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী (বিক্রয় ও বিতরণ) খন্দকার মোকাম্মেল হোসেন বলেন, ‘বিকল্প ব্যবস্থায় পল্লীবিদ্যুতের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে। পিডিবির একটি ট্রান্সফর্মার ও একটি কন্ট্রোল বোর্ড এবং পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশের একটি ট্রান্সফর্মার রিপ্লেসের কাজ শেষ হলে সিলেটে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। আমাদের প্রায় চার শ কর্মী কাজ করছেন। আশা করছি বিকালের মধ্যে মেরামত কাজ শেষ হবে।

বুধবার (১৮ নভেম্বর) সকালে নগরের পাড়া-মহল্লায় দেখা গেছে অন্যরকম চিত্র। পানি সংগ্রহের বিকল্প পথ খুঁজতে পথে বেরিয়েছেন অনেকে। যে যেভাবে পারছেন সেভাবেই পানি সংগ্রহের জন্য ছুটছেন।

কেউ রাস্তায় ভ্যান-গাড়িতে করে কলস-বাতলি নিয়ে, আবার কেউ হাতে বাতলি-বোতল নিয়ে ছুটছেন পানির সন্ধান। কেউ আবার খাবারের পানির জন্য দোকানের বোতলজাত পানির ওপর ভরসাও রাখছেন।

পানির জন্য সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শহর এলাকার বাসিন্দারা। এসব এলাকায় নেই কোনো নলকূপ কিংবা সুপেয় জলাধার। ফলে তারা শহরের বাহিরের চা বাগান বা শহরতলীর বিভিন্ন স্থান থেকে খাবারের পানি সংগ্রহ করতে ছুটছেন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের পানি সরবরাহ শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর বলেন, গতকাল শহরে মাইকিং করা হয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। গতকাল অগ্নিকাণ্ডের আগে প্রায় এক কোটি লিটার পানি সরবরাহ করেছি আমরা। নগরীর মোট চাহিদা ৮ কোটি লিটারের মধ্যে চার থেকে পাঁচ কোটি লিটার পানি সিটি করপোরেশন সরবরাহ করতে পারে। হঠাৎ বিদ্যুৎ বিভ্রাট হওয়ায় তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *