হাবিবুর রহমান,সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরায় আলোচিত স্বামী-স্ত্রীসহ একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে সিআইডি পুলিশ।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বলছে, এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত রায়হানুল তার ভাই-ভাবি আর ভাতিজা-ভাতিজিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি ও তোয়ালে উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে সাতক্ষীরা সিআইডি অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি ওমর ফারুক এ তথ্য জানান।

ডিআইজি জানান, রিমান্ডে নেয়া রায়হানুল ইসলাম ১৬১ ধারায় সিআইডি পুলিশের নিকট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সে বেকার ছিল। কোন কাজকর্ম করত না। সেজন্য তার ভাবি সাবিনা খাতুন প্রতিনিয়ত খাওয়ার জন্য খোটা দিত। সেই ক্ষোভের জায়গা থেকে ক্ষুব্ধ হয়ে ভাবিকে খুন করার সিদ্ধান্ত নেয় রায়হানুল। এজন্য ১৪ অক্টোবর রাতে পাশের ফার্মেসি থেকে ঘুমের ওষুধ ডিসোপেন ও স্থানীয় মুদি দোকান থেকে স্পিড (পানীয়) কিনে তাতে মিশিয়ে তার ভাবি ও ভাতিজা-ভাতিজিকে পান করতে দেন তিনি।

                                                        সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছেন পুলিশের খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি ওমর ফারুক

রাতে রায়হানুল তার বড় ভাইয়ের ঘরে টিভিতে আইপিএল খেলা দেখছিলেন। রাত দেড়টার দিকে বড় ভাই ঘের থেকে বাড়ি এসে দেখেন, রাহানুর তার ঘরে বসে টিভি দেখছেন। এসময় শাহিনুর তাকে টিভি দেখার জন্য বকাঝকা করে বলেন, তুই বিদ্যুৎ বিল দিস না, টিভি দেখছিস কেন। এরপর ভাইকেও মেরে ফেলবে বলে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেয়। এ সময় ভাইকেও ঘুমের অসুধ মেশানো পানিয় খাওয়ায়।

রাত ৩টার দিকে প্রথমে ভাই শাহিনুরের দুই পা বেঁধে ধারালো চাপাতি দিয়ে গলাকেটে হত্যা করে। পরে পাশের ঘরে ঘুমিয়ে থাকা তার ভাভিকেও গলাকেটে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের সময় ভাবি চিৎকার দিলে ভাতিজা ও ভাতিজিও ঘুম থেকে উঠে যায়। এজন্য তাদেরও হত্যা করে রায়হানুল। পরে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতিটি বাড়ির পাশের বড় পুকুরে ফেলে দেয় সে। তার দেয়া তথ্য মতে তাকে সঙ্গে নিয়ে বুধবার পুকুর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি ও তোয়ালেটি উদ্ধার করা হয়েছে।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৭ অক্টোবর গ্রেপ্তার হওয়া কলারোয়া উপজেলার খলসি গ্রামের প্রতিবেশী  আব্দুর রাজ্জাক,মালেক ও একই গ্রামের ঘের কর্মচারি আসাদুল ইসলামকে আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। তাদেরকেও জিঙ্গাসাবাদ করা হবে। হত্যার ঘটনায় তাদের কেউ সম্পৃক্ত কিনা সেটি পরিস্কার হতেই আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

 

 

 

নিহত শাহিনুরের ভাই ঘাতক রায়হানুল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *