জেলা প্রতিনিধি,সাতক্ষীরা :
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের গাবুরায় ধসেপড়া বেড়িবাঁধ সংস্কার করতে কয়েক হাজার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে রাত-দিন কাজ করছেন। গত তিন দিন ধরে তারা চেষ্টা করলেও এখনও জোয়ারের পানি আটকানো সম্ভব হয়নি।

এদিকে মঙ্গলবার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের নেবুবুনিয়ায় ভাঙনকবলিত বেড়িবাঁধ পরিদর্শনে গিয়ে সাধারণ মানুষকে বেড়িবাঁধ সংস্কারে উদ্বুদ্ধ করেছেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল। এ সময় গাবুরা ইউনিয়নের নেবুবুনিয়ায় ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেন।

জেলা প্রশাসক নেবুবুনিয়ার ভাঙনকবলিত বেড়িবাঁধ সংস্কারে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজে নামা এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, উপকূলের মানুষের প্রাণশক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি। এই দুর্যোগকালে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক মনে কাজ করে রিংবাঁধ মেরামত করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

এ সময় জেলা প্রশাসক আগামী শুস্ক মৌসুমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী টেকসই বাঁধ নির্মাণে কাজ করবে বলে স্থানীয়দের আশ্বস্ত করে বলেন, আপনাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।

এদিকে শ্যামনগরের গাবুরায় ধসেপড়া বেড়িবাঁধ নির্মাণে গত দুই দিন ধরে স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে রাত-দিন কাজ করছে। দুই-একদিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে তারা।

জেলা প্রশাসকের ভাঙনকবলিত বেড়িবাঁধ পরিদর্শনকালে শ্যামনগর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউল হক দোলন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আ ন ম আবুজর গিফারী, গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলম, সাবেক চেয়ারম্যান শফিউল আযম লেলিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরে জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল আশাশুনির শ্রীউলা ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে যান।

গত ১৯ আগস্ট প্রবল জোয়ারের চাপে কপোতাক্ষ নদের নেবুবুনিয়া অংশে ছয়টি পয়েন্টে ভাঙন ধরে। এর মধ্যে স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে ৫টি পয়েন্টে রিংবাঁধ দিতে সক্ষম হলেও একটি অংশে এখনও রিংবাঁধ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ও শ্রিউলা ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। অসংখ্য মানুষ এলাকায় বসবাসের আশা ছেড়ে দিয়ে অন্যত্র চলে যেতে শুরু করেছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *