নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাজারে পণ্যের সরবরাহের কোনো ঘাটতি নেই, ঘোষিত প্রস্তাবিত বাজেটেও বাড়ানো হয়নি ভ্যাট-ট্যাক্স। তারপরও বাজেট ঘোষণার পরপরই বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। ভরা মৌসুমেও কেজিতে চালের দাম বেড়েছে চার থেকে পাঁচ টাকা। ডিমের দামও ঊর্ধ্বমুখী। গুঁড়ো দুধ ও মসলার দাম ছুটেছে লাগামছাড়া।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ অনেক আগেই হারিয়েছে সরকার।

সংসদে বাজেট ঘোষণা আর বাজারে নিত্যপণ্যের দামের আরেক দফা বৃদ্ধি। কঠোর নজরদারির মাধ্যমে ব্যবসায়ীদেরকে এমন মনোভাবের সংস্কৃতি থেকে বের করতে সফল হয়েছিল সরকার।

তবে চলতি বছর যেন বাজার ফিরে পেয়েছে সেই পুরোনো চেহারা।

বছরের এই সময়টাতেই সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হয় চাল। তবে এবার যেন বিধি বাম। কিছুটা কমে ফের ঊর্ধ্বমুখী দাম।

এক ব্যবসায়ী বলেন, ২৮, যে চাল আমরা বিক্রি করছি ৪২ টাকায় সেই চাল এখন বিক্রি করা লাগে ৪৮ টাকা। যে মিনিকেট বক্রি করছি ৫৪ টাকায় তা এখন বিক্রি করি ৫৮ টাকায়।

অন্য এক ব্যবসায়ী বলেন, এখন মাত্র দুমাস মৌসুম আসছে। এখনো আরও ৮/১০ মাস বাকী। তাহলে ১০ মাসে চালের বাজার কোথায় যাবে?

ডিমের দামের এমন উত্থান গেল কয়েক বছরেও তেমন দেখা যায়নি। সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে হালিতে পাঁচ টাকা।

একজন ডিম ব্যবসায়ী বলেন, লাল ডিমের হালি ছিল ৩০ টাকা। কিন্তু এখন তা ৩৫ টাকা হালি। সাদা ডিমের হালি ছিল ২৮ টাকা, এখন তা ৩৪ টাকা করে।

বাজেটের ঘোষণার পর ব্র্যান্ড ভেদে গুড়ো দুধের দাম বেড়েছে কেজিতে ৬০ থেকে ১০০ টাকা। মসলার দামও লাগাম ছাড়া।

একজন ব্যবসায়ী বলেন, ভারতীয় মসুর ডালের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১০ টাকা বাড়ছে। বাজেটের পর এক কেজি পাউডার দুধে ৮০/১০০ টাকা দাম বাড়ছে।

 

এক ক্রেতা বলছেন, ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছে। কিন্তু আমরা নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা বাঁচার কোনো পথ পাচ্ছি না।

এদিকে পণ্যের দাম বৃদ্ধির তথ্য নেই খোদ কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কাছে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক আবু ইউসুফ বলেন, ২ শতাংশ, ৩ শতাংশ করে বাড়তেছে। কিন্তু এখনো বাজারে তো বাড়েনি। বাজার মনিটরিং করে আমরা দেখবো।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন ব্যবসায়ীরা। তাই নানা অজুহাতে দাম বাড়াচ্ছেন ইচ্ছে মতো।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসেন বলেন, যেহেতু সরকারের কোনো তদারকি নেই। আমদানিকারক যারা আছে, তারা তাদের মতো করে কিন্তু পণ্যগুলোর দাম নির্ধারণ করছে এবং আদায় করছে।

বাজারে ভোক্তার অধিকার নিশ্চিতে পণ্যের সরবরাহ ঠিকঠাক রাখতে সরকারি মজুদের পাশাপাশি টিসিবিকে আরও শক্তিশালী হতে হবে। মত বিশ্লেষকদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *