নিজস্ব প্রতিবেদক :


দেশের সব মানুষকে টিকার আওতায় আনতে ইউনিয়ন পরিষদ, গ্রাম, এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়ে টিকা দেয়ার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক। একইসঙ্গে টিকা নিয়ে সংকট কেটে গেছে এমন দাবি করে মন্ত্রী বলেছেন, বিভিন্ন সোর্স থেকে করোনার টিকা আনার প্রচেষ্টা চলছে, এরই মধ্যে টিকা আসছেও। টিকার অভাব হবে না।

সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘এখন দেশে করোনা মহামারিকালের সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সংক্রমণের ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে মানুষের চলাচল সীমিত করে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। লকডাউনে সবধরনের অফিস-আদালত থেকে শুরু করে শিল্প-কলকারখানাও বন্ধ রয়েছে। এতে অর্থনীতির ক্ষতি হলেও জীবনকে প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার। জীবন আগে, অর্থনীতি পরে।’

লকডাউন বাস্তবায়ন না হলে ভয়াবহ পরিণতির আশঙ্কা করে মন্ত্রী বলেন, লকডাউন দিয়ে যদি মানাতে না পারি, জনগণ যদি সচেতন না হয়, তাহলে তো ভয়াবহ পরিণতি হবে। হাসপাতালে জায়গা হবে না। ইকোনোমিতে অ্যাফেক্ট পড়বে। প্রোডাকশনে অ্যাফেক্ট করে যাবে।’

করোনার সংক্রমণ রোধে জুলাইয়ের প্রথমে ১৪ দিন কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছিল সরকার। ঈদুল আজহায় পশু ক্রয়-বিক্রয় ও মানুষের চলাচল স্বাভাবিক করতে ১৫ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত আট দিন বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছিল। যদিও পশুর হাট ও ঈদযাত্রায় মানা হয়নি স্বাস্থ্যবিধি। এরপর ২৩ জুলাই থেকে দুই সপ্তাহের জন্য দেশজুড়ে ফের কঠোর লকডাউন শুরু হলেও মানুষ আগের মতো লকডাউন মানছেন না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘লকডাউনের ৩-৪ দিন চলছে, রাস্তাঘাটে যেভাবে মানুষ বের হচ্ছে, গাড়িঘোড়া চলছে, আমরা তাতে খুবই দুঃখিত। কারণ তাতে লকডাউন ব্রেক হচ্ছে। তারা নিজেদের ক্ষতি করছে।’

এসময় হাসপাতালের ৯০ শতাংশ আসনে রোগী ভর্তি আছে বলে জানান তিনি।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি, করে যাব। বঙ্গমাতা কনভেনশন সেন্টারে আমরা অচিরেই উদ্বোধন করছি। এরপর কোনো ভবনও নেই যে আমরা কিছু করব, হাসপাতাল স্থাপন করব।’

লকডাউন নিয়ে বিকল্প চিন্তা আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অল্টারনেট প্রস্তাব কিছু না। লকডাউন মানাতে হবে। লকডাউন মানানোর জন্য যারা দায়িত্বে আছেন তাদেরকে আরও কঠোর হতে হবে। দেখেন জরিমানা করা হচ্ছে, জেলেও পাঠানো হচ্ছে তারপরেও এটা মানছে না। কিন্তু এটা মানাতে হবে। এটা ছাড়া দেয়ার ইজ নো অল্টারনেটিভ।’

জাহিদ মালেক আরও বলেন, দেশের প্রতিটি বয়স্ক ব্যক্তিকেই টিকার আওতায় আনা হবে, কাউকে বাদ দেওয়া যাবে না। সেই লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। ইউনিয়ন পরিষদ, গ্রাম, এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়ে পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে টিকা দেওয়া হবে।

এর আগে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, দেশে টিকার সমস্যা আল্লাহর রহমতে কেটে গেছে। আগামী আগস্ট মাসে কোভ্যাক্স সুবিধার আওতায় ফাইজার-বায়োএনটেকের আরও ৬০ লাখ ডোজ টিকা আসছে। সব মিলিয়ে আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে দেড় থেকে পৌনে ২ কোটি ডোজ টিকা বাংলাদেশের হাতে আসবে; যার মধ্যে মডার্না এবং সিনোফার্মের টিকা এরই মধ্যে দুদফায় দেশে চলেও এসেছে।

এখন পর্যন্ত সবমিলিয়ে ২১ কোটি টিকার ব্যবস্থা হয়েছে উল্লেখ করে জাহিদ মালেক বলেন, এর মধ্যে রাশিয়ার ১ কোটি ডোজ স্পুটনিক ভি, চীনের সিনোফার্মের ৩ কোটি ডোজ, অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৩ কোটি, কোভ্যাক্সের আওতায় ৭ কোটি ও জনসন অ্যান্ড জনসনের ৭ কোটি ডোজ টিকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২৬ বা ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে আরও ৩০ লাখ ডোজ সিনোফার্মের টিকা দেশে আসবে।

টিকা সংরক্ষণে ২৬টি কোল্ড ফ্রিজার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আনা হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এগুলোয় মাইনাস ৭০ ডিগ্রিতে রাখার মতো টিকাও সংরক্ষণ করা যাবে। বিভিন্ন দেশ থেকে নতুন করে আরও যে টিকা আসবে, সেগুলো সংরক্ষণ করতে কোনও সমস্যা হবে না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *