সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

জেলার জগন্নাথপুরে সন্তানের জম্মের পরক্ষনে হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়েছে প্রসূতি মা।

শনিবার সন্ধ্যায় জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘটনাটি ঘটে।

সদ্য জম্মনেয়া নবজাতককে হাসপাতালের সিঁড়িতে পড়ে থাকতে দেখে কর্তৃপক্ষকে জানান, এক নারী। পরে খোঁজ নিয়ে প্রসূতি পালানোর বিষয়টি নিশ্চিত হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার বিকেলে সাদিয়া বেগম (১৬) এক কিশোরীকে তার মা হাসপাতাল নিয়ে আসেন। ২-৩ দিন ধরে মেয়ের পায়খানা না হওয়ায় পেট ফুলে আছে বলে তিনি জানান। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সাদিয়াকে ভর্তি নেন। কিছুক্ষণ পর হাসপাতালের এক নার্স দেখতে পান সাদিয়া সন্তান প্রসব করতে যাচ্ছেন। এ খবর শুনে তার মা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

জানা গেছে, সাদিয়া একটি কন্যা সন্তান প্রসব করেন। শিশুটিকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। রাতে কোনো এক সময় সন্তানকে হাসপাতালের সিঁড়িতে রেখে সাদিয়া ও তার মা পালিয়ে যান। রাশিদা বেগম নামক এক নারী সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় শিশুটিকে দেখতে পান। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, সাদিয়াকে তার মা উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের বালিকান্দি গ্রামের ফারুক মিয়ার পরিচয়ে ভর্তি করেন। কিন্তু তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী খোঁজ নিয়ে এমন কাউকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে কথা হলে রাশিদা বেগম জানান, চারদিন আগে নিজের নাতিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান তিনি।যার ফলে হাসপাতালেই তাকে থাকতে হচ্ছে। গতকাল এশার আজানের সময় তিনি শিশুটিকে সিঁড়ির উপর দেখতে পেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান। বর্তমানে তিনি শিশুটিকে যত্ন করছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. শারমিন আরা আশা জানান, গতকাল বিকেলে সাধার‌ণ ডেলিভারির মাধ্যমে সাদিয়া তার সন্তানের জন্ম দেন। শিশুটি ভর্তি রেখে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছিল। কোনো এক সুযোগে তাকে হাসপাতালে রেখে তার মা ও নানি পালিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে বিষয়টি জগন্নাথপুর থানা পুলিশকে জানানো হয়।

ডা. শারমিন বলেন, ‘পুলিশ এখনো আমাদেরকে কোনো সন্ধান দিতে পারেনি। তবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুটিকে লালন পালন করা হচ্ছে। শিশুটি সুস্থ রয়েছে।’

কলকলিয়া ইউনিয়নের ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল হাশিম জানান, বালিকান্দি গ্রামে খোঁজ করে ফারুক মিয়া নামে সাদিয়ার কোনো আত্মীয়কে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারা হাসপাতালে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বলে ধারণা করছেন তিনি।

জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি সত্যিই দুঃখ জনক। আমরা ‘শিশুটির বাবা মায়ের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছি। এখান পর্যন্ত তদের সন্ধান মেলেনি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *