অননলাইন ডেস্ক:


শ্বাসরুদ্ধকর টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে জিতে কোপা আমেরিকার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময় শেষে ১-১ গোলে ড্র হওয়ায় আর্জেন্টিনা-কলম্বিয়ার মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালটি গড়ায় টাইব্রেকারে। কোপার চলতি আসরের নিয়মানুযায়ী অতিরিক্ত সময় খেলা হয়নি।

১১ জুলাই ট্রফি জয়ের মহারণে মারাকানায় আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল। প্রথম সেমিফাইনালে ব্রাজিল ১-০ গোলে হারায় পেরুকে। শুরুর বাঁশি বাজার তখনো ৭ মিনিটও যায়নি। কলম্বিয়ার পেনাল্টি এরিয়াতে মেসির পাস যায় মার্টিনেজের কাছে। বল পেয়ে মার্টিনেজ লক্ষ্যভেদ করতে ভুল করেননি। লিড নেয় আর্জেন্টিনা।

মার্টিনেজকে দিয়ে গোল করিয়ে এক অনন্য রেকর্ডে নাম লেখান মেসি। এই নিয়ে কোপার চলতি আসরে এটি মেসির পঞ্চম অ্যাসিস্ট। এর আগে কোনো ফুটবলার ৪টির বেশি অ্যাসিস্ট করেননি। প্রথমার্ধের ১-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে গেলে ফিরে এসে গোল হজম করে মেসির দল। দ্বিতীয়ার্ধে ৬১ মিনিটে লুউইস দিয়াজের গোলে সমতা ফেরায় কলম্বিয়া।

নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র। টাইব্রেকারে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ। এর আগে কোপার মঞ্চে মেসিকে চোখে জল নিয়ে বিদায় নিতে হয়েছিল। চিলির কাছে ফাইনাল হেরে অবসরেও গিয়েছিলেন তিনি। সিদ্ধান্ত পাল্টে মেসি আবার ফেরেন জাতীয় দলের জার্সিতে। উদ্দেশ্য একটাই শিরোপার আক্ষেপ ঘোচানো।

সেই লড়াইয়ে মেসিরা এবার জিতলেন। কলম্বিয়া ও আর্জেন্টিনা প্রথম শটে গোলের দেখা যায়। তবে কলম্বিয়ার দ্বিতীয় ও তৃতীয় শট রুখে দেন উড়ন্ত মার্টিনেজ। তার ক্ষীপ্রতায় পঞ্চম শটটিও জালে জড়াতে পারেনি কলম্বিয়া। অপরপাশে প্রথম শট নেওয়ার পর দ্বিতীয় শটটি মিস করে আর্জেন্টিনা। পরের দুটিই আবার কলম্বিয়ার জালে।

ফলে পঞ্চম শটটি নেওয়ার প্রয়োজনও হয়নি সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ততক্ষণে উৎসব শুরু ব্রাসিলিয়া গরিঞ্চা ফুটবল স্টেডিয়ামে। আর আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনোস আইরেস যেন উৎসবের নগরী। মেসির চিরকালীন শ্রেষ্ঠত্বে শিরোপা না জেতার আক্ষেপ জড়িয়ে আছে। এবারের কোপা হয়তো সব আক্ষেপ ঘুচিয়ে দেবে কোপার মঞ্চ।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *