সিএনএস ডেস্ক:


যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের চরম উত্তেজনাকর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে শেষ হাসিটা এবার “ট্রাম্প নয়” বাইডেনের মুখেই থাকছে। টানা তিনদিনের শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা থেকে মুক্তির পথে মার্কিনিরাও।

অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ যা-ই করা হোক না কেন, এমন নির্বাচন বিশ্ববাসীকে একটিই বার্তা দেয়। তা হলো নির্বাচনে প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থাকতে হয়।

তাই জো বাইডেন বার বার দাবি তুলতে থাকেন ‘এভরি ভোট শুড বি কাউন্টেড’। অর্থাৎ প্রতিটি ভোট গণনা করতে হবে। ৩রা নভেম্বর নির্বাচনের পর তিনদিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও যখন নির্বাচনের ফল পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন স্বাভাবিকভাবেই উত্তেজনা, উদ্বেগ দেখা দেয় চারদিকে।

ফক্স নিউজের রিপোর্ট অনুযায়ী ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটে জো বাইডেন ২৬৪ তে দাঁড়িয়ে। ট্রাম্প ২১৪। এখানে এসেই আকস্মিকভাবে থমকে দাঁড়ায় নির্বাচনের ফল। জো বাইডেনের প্রয়োজন আর মাত্র ৬টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট। ট্রাম্পের প্রয়োজন ৫৬ ভোট। এমন অবস্থা চলে দীর্ঘ সময়।

এ সময় মূল যুদ্ধ শুরু হয় সুইংস্টেট নেভাদা, পেনসিলভ্যানিয়া, জর্জিয়া ও নর্থ ক্যারোলাইনায়। নেভাদায় অল্প ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন বাইডেন। তবে সেখানে যে তিনি জিতবেন এমনটা নিশ্চিত ছিলনা। শুরু হয় বিশ্লেষণ। বলা হয়, এখানে তিনি জিতলেই পেয়ে যাবেন এ রাজ্যের মোট ৬টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট। ফলে তিনি পৌঁছে যাবেন ম্যাজিক নাম্বার ২৭০-এ।

অন্যদিকে সম্ভাবনা উঁকি দিতে থাকে জর্জিয়া থেকে। সেখানে পিছিয়ে থাকা বাইডেন ক্রমশ লিড নিতে থাকেন। শুক্রবার দুপুর নাগাদ তিনি ট্রাম্পের চেয়ে ৪৫০ ভোটে পিছিয়ে ছিলেন এ রাজ্যে। কিন্তু দুপুর তিনটার দিকে ট্রাম্পকে টপকে যান বাইডেন। তিনি এক হাজারের মতো ভোটে এগিয়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব মিডিয়ার সংবাদ শিরোনাম পাল্টে যেতে থাকে। বাইডেনের গতিতে ‘মোমেন্টাম’ সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করা হয়।

ইলেকটোরাল কলেজের হিসাব অবশ্য প্রায় একই জায়গায় স্থির। তাতে বাইডেন ২৫৩-২১৩ ভোটে ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে। মোট ৫৩৮ ইলেকটোরাল ভোটের মধ্যে প্রেসিডেন্সি নিশ্চিত করতে হলে প্রয়োজন ২৭০টি ভোটের।

অঙ্কের হিসাবে এখনো খানিকটা পিছিয়ে আছেন বাইডেন। এ কারণেই চোখ রাখতে হবে রাজ্যগুলোর ভোটগণনার গতি-প্রকৃতির দিকে। গত ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

এর মধ্যে ৪৪টি রাজ্যের ফল সুস্পষ্ট। সবই বেসরকারি, চূড়ান্ত ফল জানা যাবে ২১ নভেম্বর। বাকি আছে আর ছয়টি রাজ্য—আলাস্কা (৩), আরিজোনা (১১), নেভাডা (৬), নর্থ ক্যারোলাইনা (১৫), জর্জিয়া (১৬) ও পেনসিলভানিয়া (২০)। এর মধ্যে জর্জিয়ায় ভোট পুনর্গণনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কোন কোন মাধ্যম লিখে ফেলে ‘জর্জিয়ায় অল্প ব্যবধানে এগিয়ে বাইডেন, পথ করে নিলেন হোয়াইট হাউসের’।

সেই জর্জিয়াতেই তিনি বিজয়ের হাসি হাসবেন এমনটা যেন সময়ের ব্যাপার। এখানে আছে ১৬টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট। ২৬৪ এর সঙ্গে তা যুক্ত হয়ে দাঁড়ায় ২৮০। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে একজন প্রার্থীর প্রয়োজন ২৭০টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট।

সিনেটে ৪৮ আসনে জয় পেয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সিএনএনের এক অনুমানে গতকাল রাতে বলা হয়, রিপাবলিকান পার্টির শক্ত ঘাঁটি অ্যারিজোনার সিনেট আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট মার্ক কেলি। রিপাবলিকানদের প্রাপ্ত আসনসংখ্যা ৪৭। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৫১টি আসন।

 

সূত্র:- সিএনএন/ এএফপি

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *