নিজস্ব প্রতিবেদক:

ভারতের শিলং তীর নামক অনলাইন জুয়া চক্রের চার বাংলাদেশী এজেন্টকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মোঃ শামিম মিয়া (৩০), মোঃ আব্দুল আলী (৩১), মোঃ এরশাদ মিয়া (২৯) ও মোঃ সোহাগ মিয়া (২৭)। এ সময় তাদের নিকট থেকে ০৬ টি মোবাইল, ০১ টি রেজিস্টার খাতা, ১-৯৯ পর্যন্ত নম্বার বিশিষ্ট ০৪ টি চার্ট সম্বলিত ব্যবহৃত শীট এবং ০৫ টি অব্যবহৃত চার্ট সম্বলিত শীট জব্দ করা হয়।

এ বিষয়ে গোয়েন্দা অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার মোঃ নাজমুল হক  বলেন, ১৯৯০ সালে সিলেটের সীমান্তবর্তী ভারতের শিলং ও গৌহাটি এলাকা থেকে চালু হয় এই জুয়া খেলাটি।

এরপর ধীরে ধীরে জুয়া খেলাটি ছড়িয়ে পড়ে সিলেটের বিভিন্ন প্রান্তে। সিলেটের অনেককে সর্বশান্ত করে জুয়াটি বিস্তার করে নেত্রকোনা জেলায়। নেত্রকোনা হয়ে শিলং তীরের থাবা এবার রাজধানীর বুকে এমন তথ্যের ভিত্তিতে তথ্য ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে ২৪ আগস্ট ২০২০ তারিখ বিকাল সাড়ে ৫ টায় গুলশান থানার কালাচাঁদপুর এলাকায় অভিযান করে অনলাইনে শিলং তীর জুয়ার এজেন্ট শামিম ও আব্দুল আলীকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্য মতে ২৫ আগস্ট, সকাল ৮ টায় নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা থানার বড়–য়াপনা বাজার থেকে অপর এজেন্ট এরশাদ ও সোহাগকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য সম্পর্কে গোয়েন্দা এই কর্মকর্তা জানান, ভারতের শিলং এর জুয়াড়ীরা বাংলাদেশে এজেন্ট নিয়োগ দেয়। বাংলাদেশী এজেন্টরা আবার বিভিন্ন এলাকায় তাদের সেলসম্যান নিয়োগ করেন। এই সেলসম্যানদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন ধরণের লোভ দিয়ে ভয়ানক শিলং তীর নামক জুয়ায় আসক্ত করে সর্বশান্ত করেন।

ভারতের শিলং ভিত্তিক ওয়েবসাইড (WWW.TEERTODAY.COM) ব্যবহার করে উক্ত ওয়েবসাইড হতে প্রাপ্ত ১ হতে ৯৯ পর্যন্ত নম্বরগুলো বিক্রি করে। ওয়েবসাইড হতে প্রাপ্ত নম্বরগুলো যারা ক্রয় করে থাকে তাদের সাথে সেলসম্যানরা যোগাযোগ করেন। তখন জুয়াড়ীরা সেলসম্যানের নিকট নম্বর ও বিভিন্ন অংকের টাকা প্রদান করে। সেলসম্যানরা বিক্রিত এই নম্বরের বিপরীতে টাকা এজেন্টের কাছে দেয়।

ভারতের শিলংয়ে রবিবার ব্যতীত সপ্তাহের ৬ দিন বাংলাদেশ সময় ১৬.১৫ ঘটিকায় এই জুয়া খেলার ড্র অনুষ্ঠিত হয়। ড্রতে ১ হতে ৯৯ এর মধ্যে একটি নম্বর বিজয়ী হয়। যারা ঐ নম্বরটি ক্রয় করে তারা বিজয়ী হিসেবে গণ্য হয় এবং বিজয়ীরা নম্বরের ক্রয়মূল্যের ৮০ গুণ টাকা এজেন্টের মাধ্যমে পেয়ে থাকে। কিন্তু বেশিরভাগ জুয়াড়ীরা বিজয়ী হতে না পেরে তাদের পুঁজি হারিয়ে ফেলে। জুয়াড়ী, সেলসম্যান এবং এজেন্টের মধ্যে সমস্ত লেনদেন সম্পন্ন হয় মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে।

তিনি আরো জানান, সেলসম্যানরা জুয়াড়ীদের নিকট হতে সংগৃহীত টাকা থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমান কমিশন রেখে বাকি টাকা ঢাকার এজেন্ট শামিম ও আব্দুল আলী এর নিকট পাঠায়। এরপর শামিম ও আলী তাদের কমিশন রেখে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে টাকা নেত্রকোনার এজেন্ট এরশাদ ও সোহাগদের নিকট পাঠায়।

নেত্রকোনা থেকে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে টাকা চলে যায় সিলেটের জাফলংয়ে। জাফলং থেকে টাকা হুন্ডির মাধ্যমে ভারতের শিলংয়ে চলে যায় বলে জানা যায়। এভাবে প্রতিদিন এই চক্রটি সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।

গ্রেফতারকৃতদের গুলশান থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রুজুকৃত মামলায় ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে (২৬ আগস্ট) বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *