ক্রীড়াঙ্গন ডেস্ক:

বাংলাদেশ ক্রিকেটকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার নায়ক আজ ৩৬ বছর পেরিয়ে ৩৭-এ পা দিলেন। এরমধ্যে ক্রিকেট মাঠেই কাটিয়ে দিয়েছেন দীর্ঘ ১৯ বছর। এই সুদীর্ঘ সময়ে ক্রিকেট মাঠে নিজের পারফরম্যান্সে,দক্ষ নেতৃত্বেই লাল-সবুজ জার্সিধারীদের সাফল্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেছেন! বাংলাদেশকে দিয়েছেন অনেক আনন্দের এবং স্মরণীয় মুহূর্ত।আজ সেই মানুষটির জন্মদিন। শুভ জন্মদিন মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা।

১৯৮৩ সালের আজকের এই দিনে নড়াইলের চিত্রা নদীর পাড়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি। ৩৭-এ পা রাখা মাশরাফির ডাকনাম কৌশিক। মজার ব্যাপার হলো- ছেলে সাহেলেরও জন্ম আজকের এই দিনে। ২০১৪ সালে ঢাকায় মাশরাফি-সুমি দম্পতির প্রথম পুত্রসন্তানের জন্ম হয়।

ক্রিকেটে মাশরাফির হাতেখড়ি নড়াইলে। শৈশবে দারুণ দুরন্তপনায় মত্ত মাশরাফির শুরুতে অবশ্য ফুটবল, সাতার এবং ব্যাডমিন্টনের নেশা ছিল। কিন্তু, ধীরে ধীরে ক্রিকেটের প্রতি প্রেম বেড়েছে। প্রথমে ব্যাটিংয়ে বেশি আগ্রহ থাকলেও বোলিং দিয়ে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছিলেন তিনি। এভাবেই নড়াইল হয়ে ঢাকার পথ ধরেন মাশরাফি।

বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে বলতে গেলে সংগ্রামই করা লাগেনি তার। খেলা লাগেনি কোনো প্রথম শ্রেণির ম্যাচও। জাতীয় দলের জার্সি তাই গায়ে উঠেছে মাত্র ১৮ বছর বয়সেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ওয়ানডে জার্সিও গায়ে চড়িয়েছেন টিনেজ পেরোনোর আগেই। আর সেই সময়ে গতির ঝড়ে প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করতে বেশ পারদর্শী ছিলেন মাশরাফি।

২০০১ সালে হ্যামিল্টনে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৪৮ কি.মি. গতিতে বল করে বাংলাদেশের সবচেয়ে দ্রুততম বোলারের খ্যাতিও নিজের করে নিয়েছিলেন তিনি। সময়ের সঙ্গে হয়ে ওঠেন ক্রিকেট মাঠে সকলের প্রিয় মুখ।

সবাই নিজের জম্মদিনটা ধুমধামম করে পালন করলেও মাশরাফির জম্মদিনে পরিবারের পক্ষ থেকে থাকেনা কোন জম্মদিন উদযাপনের আয়োজন।জন্মদিনের মতো উপলক্ষ উদযাপনে আগ্রহী নন মাশরাফি নিজেও।

এর পেছনে একটি গল্প রয়েছে- নানাবাড়িতে প্রথম জন্মদিনটি ধুমধাম করে উদযাপন করেছিলেন তার মা হামিদা মোর্ত্তজা। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর নানা মাকে ডেকে বলেছিলেন- ধরো তোমার ছেলে যদি ৭০ বছর বাঁচে, তা হলে ওর বয়স কমছে না বাড়ছে? মা মাথা নিচু করে বলেছিলেন- কমছে। নানা তখন বলেছিলেন- তা হলে এভাবে উৎসব না করে গরিব-দুঃখীদের খাওয়াতে পার, নফল নামাজ পড়তে পার।

এর পর পরিবার থেকে আর কখনো মাশরাফির জন্মদিন পালন করা হয়নি। বড় হয়ে মাশরাফিও আর মায়ের ভাবনার বিপরীতে যাননি।

এই মুহূর্তে নিজেকে অবশ্য রাজনীতির ময়দানে ব্যস্ত রাখছেন নিজের অঞ্চলের মানুষের কল্যানে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে নিজ জেলা নড়াইলের থেকে ক্ষমতাসীন দলের হয়ে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন তিনি। করোনার এই সময়েও মানুষের জন্য কাজ করেছেন অসাধারণভাবে। নিজে করোনায় আক্রান্তও হয়েছেন।

তবে যোদ্ধা মাশরাফি হার মানতে জানেন না। করোনাকেও হার মানিয়েছেন তিনি। এই মুহূর্তে ক্রিকেট নয় মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন।

টাইগার ক্রিকেটের এই মহানায়কের ৩৭তম জন্মদিনে, তার প্রতি কোটি ভক্তের পক্ষ থেকে একটাই চাওয়া, ‘ভালো থাকো মাশরাফি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *