নিজস্ব প্রতিবেদক:

আজ ১৬ ডিসেম্বর। মহান বিজয় দিবস। বিজয়ের ৪৯তম বার্ষিকী। বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিবস এদিন। বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশসহ পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখন্ডের নাম জানান দেয়ার দিন।

দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজধানীজুড়ে সড়ক, স্থাপনা, সরকারি ও বেসরকারি ভবনগুলো সেজেছে লাল-সবুজসহ নানা রঙের বাতির আলোতে।

মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, লাল-সবুজের পতাকার আবহে রঙিন বাতিতে সাজানো হয়েছে বিভিন্ন স্থাপনা। বড় বড় ভবনগুলো যেন এক একটি বিশাল পতাকা। শুধু স্থাপনাই নয়, সড়ক পথও আলোর ঝলকানিতে রঙিন হয়ে উঠেছে।

সন্ধ্যার পর রঙবেরঙের আলোকচ্ছটায় ঝলমলিয়ে ওঠে এলাকাগুলো। আলো দিয়ে তৈরি করা হয় প্রিয় লাল-সবুজ পতাকা। মনকাড়া এমন আলোকসজ্জায় মুগ্ধ রাজধানীবাসী।

রাজধানীর সচিবালয়, রাজউক, বাংলাদেশ ব্যাংক, সংসদ ভবন, বঙ্গভবন, গণভবন, নগর ভবন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, টিএসসি, সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, শাপলা চত্ত্বরসহ বিভিন্ন স্থানে শোভা পাচ্ছে নানা রঙের বাতি। আলোর ঝলকানিতে পুরো ঢাকা হয়ে উঠেছে বর্ণিল।

শাহবাগ, বাংলামোটর, ফার্মগেট, জাহাঙ্গীর গেট সড়কের ডিভাইডার ও ল্যাম্পপোস্টে লাগানো হয়েছে বিজয় দিবসের বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন। এসব ব্যানার-ফেস্টুনে রয়েছে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের কথা ও জাতিকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।

রাজধানী জুড়ে লাল-সবুজের আলোকসজ্জা উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করছে। মনকাড়া এমন আলোকসজ্জায় মুগ্ধ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। এমন দৃশ্য দেখতে কেউ কেউ ঘুরতে বেড়িয়েছেন, কেউবা ক্যামেরাবন্দি করছেন রঙিন আলোতে নিজেকে।

১৯৭১ সালের এদিনে বাঙালি জাতি পরাধীনতার শেকল ভেঙ্গে প্রথম স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহণ করে। ২৪ বছরের নাগপাশ ছিন্ন করে জাতির ভাগ্যাকাশে দেখা দেয় এক নতুন সূর্যোদয়। প্রভাত সূর্যের রক্তাভা ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে।

যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস-২০২০ উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের কারণে এ বছর বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে না।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *