আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
এই প্রথম মিয়ানমারের সেনাবাহিনির কেউ রোহিঙ্গা গণগত্যার কথা স্বীকার করলো। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দু’টি সংবাদ সংস্থা ও একটি অধিকার গ্রুপ জানিয়েছে ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে দমনাভিযান চালানোর সময় তাদের হত্যার কথা স্বীকার করা মিয়ানমারের দুজন সৈন্যকে হেগে আনা হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমস, কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন এবং ফোর্টিফাই রাইটসের ভাষ্যমতে, এ বছর মিয়ানমারে ধারণ করা এক ভিডিওতে; এই দুই সৈনিক স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে তারা উত্তর রাখাইন রাজ্যে কয়েক ডজন গ্রামবাসীকে হত্যা করে গণকবরে পুঁতে রাখে।

নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, তারা এ দু’জন সেনা যে অপরাধের কথা স্বীকার করেছে- তা আসলেই তারা করেছে কিনা; সে ব্যাপারে পত্রিকাটি নিশ্চিত হতে পারেনি।

মিয়ানমার সরকার ও সামরিক মুখপাত্রদের সঙ্গে এব্যাপারে তাদের মন্তব্য চেয়ে করা ফোনকলগুলোর জবাব পায়নি মার্কিন দৈনিকটি।

পাশাপাশি, মন্তব্যের জন্য মিয়ানমার সরকার ও সামরিক মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া পাওযা যায়নি।
টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, ওই দুই সৈনিক রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সরকারি সেনাদের সাথে লড়াইরত আরাকান বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হেফাজতে ছিল। স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর এখন তাদের নেদারল্যান্ডসের হেগে আনা হয়েছে। এখানে হয় তারা সাক্ষী হবে কিংবা বিচারের মুখোমুখি হবে। এদের নাম হলো; মাইয়ো উইন তুন এবং জাউ নায়ে তুন।

প্রতিবেদনে অবশ্য এই সৈনিকরা কিভাবে আরাকান বিদ্রোহীদের হাতে ধরা পড়ল, তারা কেন স্বীকারোক্তি দিল কিংবা কীভাবে তাদের হেগে আনা হল, কাদের তত্ত্ববধানে আনা হয়েছে; সে সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি।

হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি)এক মুখপাত্র অবশ্য জানিয়েছে তাদের হেফাজতে এরকম কেউ নেই।

বাংলাদেশের হয়ে আইসিসি’তে প্রতিনিধিত্বকারী কানাডিয় আইজীবী পায়াম আখভান জানিয়েছেন, ২০১৭ সালে ওই দুই ব্যক্তি বাংলাদেশের সীমান্ত চৌকিতে এসে সরকারের নিরাপত্তা কামনা করে। এবং রোহিঙ্গাদের ধর্ষণ ও গণহত্যার কথা স্বীকার করে।

‘আমি শুধু এ কথাই বলব ওই দুই ব্যক্তি এখন আর বাংলাদেশে নেই।

আরাকান আর্মির এক মুখপাত্র খাইন থু খা জানিয়েছেন, সৈনিক দুজন স্বপক্ষত্যাগী। তাদেরকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে আটক রাখা হয়নি। এরা এখন কোথায় আছেন সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সব অপরাধের সুবিচার নিশ্চিত করতে চায় তারা, তিনি যোগ করেন।

মিয়ানমার প্রতিবারই গণহত্যার কথা অস্বীকার করে আসছে, তাদের দাবি ২০১৭ সালে পরিচালিত অভিযানের লক্ষ্য ছিল সীমান্ত পুলিশ চৌকিতে আক্রমণ চালানো রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা।

আইসিসি রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে জোরপূর্বক নির্বাসনে বাধ্য করার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের পাশাপাশি নির্যাতন ও অন্যান্য অমানবিক কার্যকলাপের তদন্ত করছে।

আইসিসির কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে: ‘আইসিসি চলমান তদন্ত সম্পর্কে কোনো ধারণা বা প্রতিবেদন বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করে না, এমন কি তদন্ত কার্যক্রমের কোনও দিক সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো আলোচনাও করে না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *