নিজস্ব প্রতিবেদক:

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদক ব্যবসা, আধিপত্য বিস্তার, ও  দখলের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিপক্ষ গ্রুফের মধ্যে সহিংস সংঘাতের পর কমপক্ষে ২,০০০ শরণার্থী অন্যান্য রহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। ওই ঘটনার পর রহিঙ্গা আশ্রয় কেন্দ্রের প্রায় ১৫টি ঘর পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এই সহিংস সংঘাতের প্রেক্ষিতে রোহিঙ্গাদের কর্মকান্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ক্যাম্পেইনার সাদ হামাদি বলেন, ‘শিবিরের ভেতরের পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক। কর্তৃপক্ষ যদি অবিলম্বে সহিংসতা নিরসন ও শরণার্থীদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে আরো রক্তপাতের গুরুতর আশঙ্কা রয়েছে।

রোহিঙ্গা শরণার্থীরা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে বলেছেন যে, শরণার্থী শিবিরে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত একটি দল ও আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভ্যাশন আর্মি (আরসা) নামে আরেকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে শিবিরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাত বাধে।

খবরে এসেছে যে, দুই দলের মধ্যে আংশীদারিত্ব নিয়ে চলা একটি আলোচনা থেমে গেলে এই সংঘাত শুরু হয়।স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়, উভয় দল একে অপরের বিরুদ্ধে বন্দুক ও লোহার তৈরি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৬ই অক্টোবর শিবিরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ। তবে তারপরও সশস্ত্র সংঘাত অব্যাহত ছিল। গত মাসে বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী এ কে এম মোজাম্মেল হক বলেছিলেন, শিবিরে নজরদাড়ি বাড়াতে প্রহরীদুর্গ ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে যেসব রোহিঙ্গা কথা বলেছেন, তাদের মতে, মেথাফেটামিন ট্যাবলেট নামে একটি মাদকের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টাই মূলত সংঘাত শুরু হওয়ার অন্যতম কারণ। মিয়ানমারে উৎপাদিত ওই মাদক বাংলাদেশে পাচার হয়।

অবৈধ মাদক বাণিজ্যের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের সহিংস দমনপীড়ন (যার মধ্যে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে) অব্যাহত থাকায়, শরণার্থীদের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে যে, এসব সহিংস সংঘাতের কারণে শিবিরের প্রত্যেকে আরো বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *