জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক:


দেশের মোট ২৬টির মধ্যে ১৭টি পাটকল ইজারা দিতে যাচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে ইজারা পেতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি ভারতের দুইটি ও লন্ডনের একটি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

পাট শিল্পখাতকে পুনরায় উজ্জীবিত করতে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকলগুলোকে বেসরকারি খাতে ইজারা দিচ্ছে সরকার।

সংশ্লিষ্টদের আশা, লোকসান আর দেনায় নিমজ্জিত পাট কলগুলো বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরুজ্জীবিত হবে। আর চলতি বছরের মধ্যেই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, গত বছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) আওতায় পরিচালিত পাটকলগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

পরবর্তীতে শিল্প প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ আইন, ২০১৮ এর ১১ ধারা অনুযায়ী পাটকলগুলো ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

একটি বন্ধসহ মোট ২৬টির মধ্যে ১৭টি পাটকল ইজারা দিবে সরকার। এসব পাটকল ইজারা পেতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি ভারতের দুইটি ও লন্ডনের একটি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

১৪টি পাটকল ইজারা পেতে ২৪ জন উদ্যোক্তা দরপত্র জমা দিয়েছে। দেশি উদ্যোক্তা ও দেশি-বিদেশি জয়েন্ট ভেনচারসহ মোট ৫৯টি আবেদন এসেছে। তবে খুলনা বিভাগের তিনটি পাটকলে কোনো আবেদন পড়েনি।

প্রাথমিক এই আগ্রহ বিচার বিশ্লেষণ করে শর্ট লিস্টেড প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চূড়ান্ত প্রস্তাবনা চাইবে বিজেএমসি।

বিজেএমসির সচিব ও ইজারা প্রস্তাব উদ্বোধনী কমিটির সদস্য এ, এফ, এম, এহতেশামূল হক বলেন, “ইজারার সব প্রক্রিয়া এ বছরের মধ্যেই সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। যেন উদ্যোক্তারা খুব দ্রুততম সময়ে বন্ধ পাটকলগুলো চালুর উদ্যোগ নিতে পারে। এটি কর্মসংস্থান বাড়াতে সহায়ক হবে।”

বিজেএমসির কর্তাব্যক্তিরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে পাটকলগুলো লোকসানে। পুরনো মেশিনারিজ ও পণ্য বৈচিত্র্যায়ন করতে না পারায় দেনার পরিমাণও বাড়ছে। মিলের বিশাল জায়গা অব্যবহৃত রয়েছে। বেসরকারি খাতে ইজারা দিলে পাট ও পাটজাত বিবিধ পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি হবে, রপ্তানির পরিমাণও বাড়বে।

  • ১৪টি জুট মিল ইজারা পেতে দেশি-বিদেশি ২৪ প্রতিষ্ঠানের ৫৯টি আবেদন
  • খুলনা বিভাগের তিনটি পাটকল ইজারা নিতে আবেদন পড়েনি
  • ইজারা পেতে ভারতের দুই ও লন্ডনের একটি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে
  • সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে বাংলাদেশ জুট মিলসে
  • একটি বন্ধসহ ২৬টি জুট মিলে জমির পরিমাণ ১৩১৩.৪৭ একর
  • ১৭টি জুট মিলের জমির পরিমাণ ৯৪৯ একর

নাম না প্রকাশের শর্তে বিজেএমসির এক মহাব্যবস্থাপক জানান, “পাটকলগুলোর স্থায়ী সম্পদ অনেক বেশি। বিশাল জায়গা থাকলেও অব্যবহৃত। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বন্ধ পাটকল চালু করা গেলে নতুন কর্মসংস্থান হবে। আবার যাদেরকে সরকার গোল্ডেন হ্যান্ডশেক দিয়েছে, তাদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে”।

বিজেএমসির তথ্যানুযায়ী, এ সংস্থার প্রায় ৭০,০০০ শ্রমিক ও ৫,৫০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী সরাসরি নিযুক্ত রয়েছে। পরোক্ষভাবে প্রায় ৬০ লক্ষ কৃষি পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। তবে পাটকলগুলো বন্ধ করা হলে মিলের ২৫ হাজার শ্রমিককে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক দিচ্ছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তৈরী পোশাক শিল্পখাত বিকাশের আগে আশির দশকে সোনালী আঁশ পাট ছিল অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য।

সরকারি পাটকলগুলো নিজেদের দক্ষতা উন্নয়ন ও পণ্য বৈচিত্র্যায়ন করতে না পারায় দিনে দিনে ব্যবসা হারিয়ে রুগ্ন হয়ে পড়েছে। প্রতিবছর লোকসান গুনছে, অন্যদিকে সরকারি পাটকলের বিশাল সম্পদ অব্যহৃত থাকছে।

সর্বশেষ ২০১৯-২০ অর্থবছরে পাট রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৮৮ কোটি ২৩ লাখ ডলার, যা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

সূত্র জানায়, ৫-২০ বছরের জন্য পাটকলগুলো ইজারা দেবে সরকার। পরবর্তীতে আরও বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।

ইজারার শর্ত অনুযায়ী, মিলের অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি ও জমি ব্যবহারের মাধ্যমে ইজারা পাওয়া প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করবে।

পাটকলের জমিতে কেবলমাত্র পাট, পাটজাত পণ্য এবং পাটের বিবিধ পণ্যই উৎপাদন করতে পারবে।

তবে লিজ হোল্ড সম্পত্তি বা এর কোনও অংশ ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা মধ্যস্থতাকারীসহ কোনও পক্ষকে বন্ধক, আংশিক ইজারা কিংবা ভাড়া দেয়া যাবে না।

চলতি বছরের গত এপ্রিলে বাংলাদেশ জুট মিল কর্পোরেশন (বিজেএমসি) সরকারি পাটগুলো বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিতে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে।

গত ১৫ জুন আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের দরপত্র আবেদন জমা দেওয়া শেষ হয়েছে। গত ১৭ জুন ইজারা প্রস্তাব কমিটি দরপত্র খোলার পর প্রথম বৈঠক করেছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ জুট মিলস ইজারা পেতে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে। এই মিলটি ইজারার জন্য ১১টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে।

এই পাটকলটি ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত। অবস্থান নরসিংদীতে। এ মিলে হেসিয়ান ও স্যাংকিং পণ্য উৎপাদন করা হয়। জমির পরিমাণ ৭৭ একর।

মূলত, ঢাকার কাছাকাছি হওয়ায় এখানে বেশি আবেদন পড়েছে বলে মনে করছেন বিজেএমসির কর্মকর্তারা।

ইজারা পেতে চায় বিদেশি উদ্যোক্তারা

বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকল ইজারা পেতে ভারতের মোহন জুট লিমিটেড এবং প্যাসিফিক জুট লিমিটেড আবেদন করেছে। এছাড়াও লন্ডনের জেআর (জুট রিপাবলিক) ইজারায় আগ্রহ দেখিয়েছে।

মোহন জুট লিমিটেড ভারতের রায়গড়ের একটি প্রতিষ্ঠান, যার পূর্বনাম ছিল রায়গড় জুট মিল।  ১৯৮৯ সালে মোহন জুট লিমিটেড গ্রুপ মিলটিকে অধিগ্রহণ করে।

পশ্চিমবঙ্গের প্যাসিফিক জুট লিমিটেড শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান। ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এটি। প্রতিষ্ঠানটি ভারতের ফালটা স্পেশাল ইকোনমিক জোনে প্রতিষ্ঠিত।

অন্যদিকে জেআর (জুট রিপাবলিক) ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদর দপ্তর কেন্দ্রীয় লন্ডনে অবস্থিত।

ইজারার মাধ্যমে পাটশিল্পের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অবদান বাড়ানোর সম্ভব হবে মনে করেন বিজেএমসি সচিব এ, এফ, এম, এহতেশামূল হক।

তিনি বলেন, “পাটকলগুলোর বর্তমান অবস্থান উত্তরণের জন্যই ইজারা। বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা মিল ইজারা পেলে নতুন পণ্য আনবে। একটি প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ তৈরী হবে।”

“সরকারি পাটকল ইজারা পেতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের আগ্রহ অনেক। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মিলগুলোতে আগ্রহ কম হলেও ঢাকার পাশের মিলে আগ্রহ বেশি।”

সরকারি পাটকলগুলোর লোকসান ও দেনা

বিজেএমসির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে পাটকলগুলোর লোকসান ৫৭৩.৫৮ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৭৬ কোটি টাকা বেশি।

বিজেএমসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সক্ষমতা অনুসারে উৎপাদন না হওয়ায় লোকসান ৩৩৪.৪১ কোটি টাকা, যা মোট লোকসানের ৫৮.৩০ শতাংশ। অতিরিক্ত ৯১৭৭ জন অস্থায়ী শ্রমিকের জন্য ৪৫.১৪ কোটি টাকা এবং গেট মিটিং ও শ্রমিক আন্দোলনে ব্যয় ৬৫.৮৭ কোটি টাকা।

২০০৯-১০ অর্থবছরে লোকসান ছিল ২৭৫.২৩ কোটি টাকা। ২০১০-১১ অর্থবছরে ছিল ১৭.৫৩ কোটি টাকা। ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে লোকসান হয় ৭২৯.০১ কোটি টাকা, যা বিগত দশ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

পাটকলগুলোর চলতি দেনার পরিমাণ ২৩৮৭.৮৯ কোটি টাকা। খুলনা অঞ্চলের পাটকলগুলোর দেনার পরিমাণ ১০৭৯ কোটি টাকা, চট্টগ্রাম অঞ্চলের মিলে দেনা ২৭৯.৩৩ কোটি এবং ঢাকা অঞ্চলের কলগুলোর দেনা ৯১৫.৭২ কোটি টাকা। আর নন-জুট মিলের দেনা ১১ কোটি টাকা।

পণ্য রপ্তানি কমেছে, বেড়েছে স্থানীয় বিক্রি

বিজেএমসির আর্থিক হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে স্থানীয় বাজার ও রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ৯৫০০ মেট্রিক টন। তবে প্রকৃত অর্জন ৫৮,৩৬৫ মেট্রিক টন, যা লক্ষ্যমাত্রা ৫৩%।

রপ্তানিতে ৮৭ হাজার মেট্রিক টনের লক্ষ্যমাত্রা বিপরীতে অর্জিত হয়েছে ২৯ হাজার মেট্রিক টন, যা লক্ষ্যমাত্রার ৩৩ শতাংশ।

২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছিল ৮৬.৬৮ শতাংশ।

২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ও কমে যায়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৮৩৫ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি হলেও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে হয়েছে ২৫৬ কোটি টাকা।

তবে রপ্তানি কমে গেলেও ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে স্থানীয় বা দেশীয় বাজারে পণ্য বিক্রি বেড়েছে।

সবমিলিয়ে স্থানীয় ও রপ্তানি থেকে পাটকলগুলোর ২০১৮-১৯ সালে আয় ৫৯২ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল এক হাজার ১৬৪ কোটি টাকা।

আর ভর্তুকি, অ-পরিচালন আয় মিলে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে পাটকলগুলোর মোট আয় ৭০৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

পাটকলগুলোর মোট সম্পদ ২৫,০০০ কোটি টাকা

বিজেএমসির মতে, সরকারি পাটকলের মোট সম্পদের পরিমাণ ২৫,৩৫২. ৪৬ কোটি টাকা, যার মধ্যে স্থায়ী সম্পদ ১৪ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা।

স্থায়ী সম্পদ হচ্ছে- ভূমি, ভূমি উন্নয়ন, দালান কোঠা ও অন্যান্য, স্থাপনা ও যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ও সরঞ্জামাদি, পরিবহন ও মোটরযান এবং অন্যান্য সম্পদ।

ঢাকা অঞ্চলের মিলে রয়েছে সবচেয়ে বেশি স্থায়ী সম্পদ, এসব মিলে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ৪৯৮৪.৪১ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের স্থায়ী সম্পদ ৪৪৩৫.২৯ কোটি টাকা আর খুলনা অঞ্চলে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ৪৬৬৬.১৯ কোটি টাকা। আর নন-জুট মিলের স্থায়ী সম্পদের পরিমাণ ২৪৪.০৭ কোটি টাকা।

এক নজরে বিজেএমসির পাট কল

স্বাধীনতার আগে পাটকল ছিল ৭৫টি। ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ রাষ্ট্রপতির এক আদেশে ব্যক্তিমালিকানাধীন, পরিত্যক্ত ও সাবেক ইস্ট পাকিস্তান ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের ৭৮টি পাটকল তদারকি, নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনায় বিজেএমসি গঠিত হয়।

১৯৮১ সালে মিলের সংখ্যা বেড়ে হয় ৮২টি। ১৯৮২ সালের পর ৩৫টি পাটকল বিরাষ্ট্রীয়করণ, ৮টি মিলের পুঁজি প্রত্যাহার ও ১টি পাটকল একীভূত করা হয়।

১৯৯৩ সাল থেকে বিশ্ব ব্যাংকের পাটখাত সংস্কার কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন সময়ে ১১টি কল বন্ধ, বিক্রি ও একীভূত করা হয়।

২০০২ সালে আদমজী জুট মিলস বন্ধ করা হয়। বিজেএমসি’র নিয়ন্ত্রণাধীনে বর্তমানে পাটকল আছে ৩২টি।

৫টি মিলের মামলা আদালতে বিচারাধীন যাদের একটিতে ভিসকস উৎপাদন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে আর একটিতে বিক্রয়োত্তর মামলা রয়েছে।

সর্বশেষ তিনটি নন-জুট মিলসহ সচল ছিল ২৫টি। তবে অব্যাহত লোকসানের কারণে ২০২০ সালের জুলাই মাসে সবগুলো পাটকল বন্ধ ঘোষণা করে সরকার।

কলগুলো বন্ধ থাকায় গত সেপ্টেম্বর থেকে স্বেচ্ছা অবসরে (গোল্ডেন হ্যান্ডশেক) যাওয়া শ্রমিকদের পাওনা নগদ ও সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে পরিশোধ করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকল সমূহে কাঁচাপাট প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে পাটজাত দ্রব্য উৎপাদিত হয়।

বর্তমানে হেসিয়ান, স্যাকিং, সিবিসি, ব্লাংকেট, এবিসি (জিওজুট), পাটের সুতা, বৈচিত্র্যময় জুট ব্যাগ ও কাপড় উৎপাদিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *