নোয়াখালী প্রতিনিধি:

জেলার বেগমগঞ্জে এক নারীকে (৩৬) অনৈতিক কাজের অপবাদ দিয়ে জনসম্মুখে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করেছে স্থানীয় একদল যুবক। নির্যাতিতা নারী যুবকদের বারবার বাবা ডেকেও রেহাই পায়নি বিবস্ত্রতার হাত থেকে।

এমন ‘ন্যাক্কারজনক’ ঘটনাটি ঘটেছে বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নে।

স্থানীয়দের অভিযোগ নির্যাতনকারীরা সন্ত্রাসী দেলোয়ার বাহিনীর লোক। তাদের অত্যাচারে সাধারণ মানুষ সবসময় আতংকের মাঝে থাকেন। তাই প্রতিবাদ না করে সন্ত্রাসীদের ভয়ে ঘরে তালা দিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন নির্যাতিতা নারী ও তার পরিবারের সকল। নির্যাতিতা নারীটির স্বজনরাও ভয়ে মুখ খুলছেনা। যার ফলে নির্যাতিতার পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গতকাল দুপুর থেকে নির্যাতনের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুরো জেলায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। টনক নড়ে স্থানীয় প্রশাসনের। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ সন্ধ্যায় একলাশপুর থেকে আবদুর রহিম (২৪) নামের এক যুবককে আটক করেছে।  অভিযুক্ত রহিম জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের শেখ আহম্মদ দুলালের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে আটককৃত ব্যক্তি সন্ত্রাসী দেলোয়ার বাহিনীর  সেকেন্ড ইন কমান্ড।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, নির্যাতনকারীদের মধ্যে এক যুবক নারীর পরনে থাকা জামাকাপড় টেনে-হিঁচড়ে সম্পূর্ণ খুলে ফেলে। এ সময় ওই নারী বিছানার চাদর, তোষক, খাটের ওপর থাকা বিভিন্ন কাপড় দিয়ে নিজের দেহ ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

কিন্তু নির্যাতনকারীদের মধ্যে কয়েকজন চারদিক থেকে কাপড়গুলো টেনে সরিয়ে দেয়। এক যুবক নারীর মুখে বারবার লাথি মারে। এক যুবক নারীর গোপনাঙ্গে বারবার হাত দেয় ও আঘাত করে। একজন তার মুখ ও বুকের বিভিন্ন স্থানে কামড় দেয়।  আরেক যুবক তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। নির্যাতনকারীদের বারবার বাবা ডেকেও রক্ষা পাননি ওই নারী।

স্থানীয়রা জানান, গত তিন বছর আগে ওই নারীর বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিনের মধ্যে তার স্বামী আরেকটি বিয়ে করলে তাদের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে আগের স্বামী ওই নারীর  ঘরে প্রবেশ করার অপরাধে দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার ও তার লোকেরা নারীটিকে পর পুরুষের সঙ্গে অনৈতিক কাজ করার অপবাধ দিয়ে এমন জগন্যতম অত্যাচার চালিয়ে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়।

ভিডিওটি দেখে স্থানীয়রা জানান, সন্ত্রাসী দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার ও তার সেকেন্ড ইন কমান্ড রহিম, বাদল, কালাম, সাইফুদ্দিন ও সুমনসহ ৬-৭ জন ওই নারীর ওপর এ নির্যাতন চালিয়েছে।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখে পুলিশ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে আব্দুর রহিম নামের নির্যাতনকারী দলের এক সদস্যকে আটক করেছে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবদুর রহিম ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *