নওগাঁ প্রতিনিধি:

জেলার মান্দা উপজেলা বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের পারশিমলা গ্রামে যৌতুক না দেয়ার কারনে নির্যাতনের শিকার মৌসুমি আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত গৃহবধূর রামেক হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে ওইদিন বিকেলে মৌসুমীর লাশ তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করে। নিহত মৌসুমীর স্বামীর নাম মিজানুর রহমান।তার বাড়ি চকচোঁয়ার গ্রামে পিতার নাম আফজাল হোসেন।

নিহত মৌসুমীর পিতা আফজাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন,১২ বছর আগে বিয়ের সময় নগদ টাকাসহ মূল্যবান উপহার সামগ্রী দেওয়ার পরেও জামাই সন্তুষ্ট ছিল না। বিয়ের কিছু দিন যেতে না যেতেই আরও যৌতুক দাবি করে মিজানুর রহমান মৌসুমীর উপর নির্যাতন চালায়। মেয়ের সুখের বিষয় চিন্তা করে পরে আরো ৫০ হাজার টাকা দেয় জামাইকে। কিন্তু মিজানুর আরও ১ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে বসে। সেই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশের পর থেকে মৌসুমীর উপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

একপর্যায় মিজানুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে মৌসুমীর উপর গত বুধবার অমানুসিকভাবে নির্যাতন চালায়। এসময় মৌসুমী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে গ্রামবাসী তাকে উদ্ধার করে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় ওইদিন রাতেই মৌসুমীকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার ৫দিন পর মৌসুমী মারা যায়। এদিকে ঘটনার পর থেকে মিজানুর রহমানসহ তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন।

বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের পারশিমলা গ্রামের ইসাহাক আলীর ছেলে মিজান ও মৌসুমির সংসারে তাদের একটি ছেলে সন্তানও রয়েছে।

মান্দা থানার পরিদর্শক(তদন্ত) তারেকুর রহমান সরকার বলেন, ঘটনা জানতে পেরেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এরপরেও বিষয়টি খোজঁ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *