মো. শামীম হোসেন,সাভার:

সাভারে মাদক মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামী ফরিদ আল রাজী এখন যুবলীগ নেতা।

পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী ফরিদ আল রাজী নিজের সকল অপরাধ আর অপকর্ম আড়াল করতে কৌশলে বাগিয়ে নিয়েছেন সাভার থানা যুবলীগের পদটি ।  থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থায় মাদকের তালিকাতে তার নাম থাকলেও শুদু মাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের কারনে বারবার পার পেয়ে যান মাদকের এ কারবারি। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ছাড়াও রয়েছে অভিযোগের দীর্ঘ তালিকা।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাভার উপজেলার বনাঁও ইউনিয়নের সাধাপুর পুরানবাড়ী এলাকার মৃত শেখ আব্দুল জলিলের পুত্র সাভার থানা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক ফরিদ আল রাজীসহ চার জনকে গত ২০১৮ সালের ২৭ এপ্রিল হেরোইন ও ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তারা জামিনে বেরিয়ে আসে।

ওই বছরের ২ মে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: ফরহাদুজ্জামান ভূইয়া আদালতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোপত্র দাখিল করেন। অভিযোগ পত্র নং-২৭১।

অভিযোগ পত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, ফরিদ আল রাজীসহ গ্রেফতারকৃতরার প্রকৃতই মাদক ব্যবসায়ী মাদক ব্যবসা তাদের পেশা ও নেশা। তারা দীর্ঘদিন যাবত সংঘবদ্ধ হয়ে কৌশলে হেরোইন ও ইয়াবা ট্যাবলেট সংগ্রহ করে বিক্রয় করিয়া আসছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৭অক্টোবর যুবলীগ নেতার বড় ভাই আব্দুল ওহাব ও তার এক সংঙ্গীয় ১০পিছ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার করেন সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জুলফিকার আলী সরদার। এটনায় ওইদিনই থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

মাদক মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামী হয়েও ফরিদ আল রাজী কিভাবে সাভার থানা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদটি আঁকড়ে ধরেছেন তা নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রীয়া।

বনঁগাও ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড সদস্য মান্না হাওলাদার জানান, ফরিদ আল রাজীসহ তার পুরো পরিবারই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

এব্যাপারে ঢাকা জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জিএস মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি প্রথম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে অবহিত হয়েছি। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের সাথে আলোচনা করা হয়েছে। নির্দেশনা পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

তিনি আরো বলেন, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল হোসেন খান নিখিলের নির্দেশ, যারা নীতি ও আদর্শের বাইরে কাজ করবে। সে যেই হ‌উক যুবলীগে থাকতে পারবে না।

এছাড়াও সারাদেশে যুবলীগ এখন অনেক স্মার্ট। ভবিষ্যতে যুবলীগ আরো ভালো হবে বলে আশা প্রকাশ করেন জিএস মিজান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *