জেলা প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ:
সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করেই ভুয়া বিলের মাধ্যমে ৩০ কোটি টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে প্রকল্প পরিচালক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের সত্যতা মেলায় গত রবিবার মামলা করা হয়েছে।

আসামিরা হলেন ‘শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ ও ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সিরাজগঞ্জ স্থাপন’ প্রকল্পের পরিচালক ডা. কৃষ্ণ কুমার পাল ও মেসার্স বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কম্পানির স্বত্বাধিকারী জাহের উদ্দিন সরকার।

তবে প্রকল্প পরিচালক ডা. কৃষ্ণ কুমার পাল বলেছেন, প্রকল্পের সব নিয়ম মেনেই কাজ করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে জাহের উদ্দিন সরকারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দুদকের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদন নিয়েছেন। বিধি লঙ্ঘন করে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির পরিবর্তে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে মেসার্স বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কম্পানির স্বত্বাধিকারী জাহের উদ্দিন সরকারের আরেক প্রতিষ্ঠান ফারভেন্ট কম্পানি লিমিটেডকে এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

কম্পানিটি হংকং থেকে মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি এনে সরবরাহের নামে ১৩২ কোটি ৫০ লাখ চার হাজার ১৪৭ টাকার ফান্ড স্থানান্তর করেছে। অথচ কার্যাদেশ ও এলসির নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও যন্ত্রপাতি বুঝিয়ে দেয়নি। তার পরও শুধু জাহাজীকরণ দলিলের মাধ্যমে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৭০টি মেডিক্যাল আইটেমের ৩৭ কোটি ৫৪ লাখ ৪৩ হাজার ৬৪৬ টাকার মধ্যে ৩০ কোটি তিন লাখ ৫৪ হাজার ৯১৬ টাকা (৮০ শতাংশ) ফারভেন্ট কম্পানির সিটি ব্যাংক হংকং লিমিটেডের হিসাব নম্বরে পাঠানো হয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে জানিয়েছে দুদক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *