আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশ নেওয়া বয়স্ক স্বেচ্ছাসেবীদের দেহে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা উদ্দীপ্ত করতে সফল হয়েছে অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রার্থী ভ্যাকসিন। আজ সোমবার এক ঘোষণায় ব্রিটিশ-সুইস মালিকানার কোম্পানি এ তথ্য জানিয়েছে।

রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে উদ্দীপ্ত করতে সক্ষম হওয়া মানেই; তা বয়স্কদের দেহে প্রয়োগ ফলপ্রসূ এবং নিরাপদ এমনটা নয়। তবে নিঃসন্দেহে এটা আশাব্যঞ্জক খবর। কারণ, বয়সের সাথে সাথে আমাদের দেহের প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় গবেষকদের সঙ্গে যৌথভাবে এটির গবেষণা ও তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের কাজ চালাচ্ছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা।

পরীক্ষাধীন কোনো ওষুধ বা প্রতিষেধক প্রয়োগের ফলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয়- ‘রি-অ্যাক্টোজেনিসিটি’। অ্যাস্ট্রাজেনেকা জানিয়েছে, ট্রায়ালে অংশ নেওয়া তরুণদের চাইতে বয়স্কদের মধ্যে এমন প্রভাব ছিল খুবই কম। এটাও বড় আশার খবর। খবর বিজনেস ইনসাইডারের।

কোম্পানির একজন মুখপাত্র মার্কিন গণমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডারকে বলেন, ”পূর্ণবয়স্ক তরুণ এবং অপেক্ষাকৃত বয়স্কদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা টিকাটি দেওয়ার পর সমানভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে। পাশাপাশি বয়স্কদের দেহে রি-অ্যাক্টোজেনিসিটি যেমন কম দেখা গেছে, তা নিঃসন্দেহে ভালো খবর। সাফল্যটি আমাদের মনোবল বাড়িয়েছে। কারণ, কোভিডে শেষোক্ত এই জনসংখ্যাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি বহন করে।”

তিনি আরও জানান,  ”এতে করে আমাদের তৈরি AZD1222 প্রার্থী টিকার প্রতিরোধ সক্ষমতা উদ্দীপ্ত করার আরেকটি প্রমাণ পাওয়া গেল। সুরক্ষা নিয়ে সংশয় যার ফলে অনেকটা দূর হয়েছে।”

এর আগে লন্ডনের বিখ্যাত অর্থনীতি বিষয়ক দৈনিক- দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস পৃথিবীর অন্যতম সম্ভাবনাময় এ ভ্যাকসিনটি- শরীরে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি এবং বৃদ্ধদের দেহে টি-সেল তৈরি করতে সমর্থ হয়েছে, বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল।

তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্য পর্যালোচনায় জড়িত দুই গবেষকের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি এব্যাপারে নিশ্চিত করে।

এরপরই সোমবার আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিজেদের শেষ পর্যায়ের চলমান ট্রায়ালে আসা সফলতার কথা জানিয়েছে ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাটি।

সূত্র:-টিবিএস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *