নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর কাঁঠালবাগানে একটি ভবনের ৯ তলার বারান্দা থেকে ‘লাফিয়ে পড়ে’ মারা গেছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আসিফ ইমতিয়াজ খান জিসাদ। এই মৃত্যু নাড়া দিয়েছে নগরবাসীকে।

জানা গেছে, উচ্চশিক্ষিত যুবক আসিফ কিছুটা হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। জড়িয়ে পড়েন নেশায়ও। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার মনোমালিন্য চলছিল।

তার স্ত্রী সাবরিনা শাহিদ নিশিতা। তাকে প্রেম করে বিয়ে করেন আসিফ। এই বিয়ে মেনে নেয়নি তার পরিবার। এ কারণে বাবাসহ পরিবার মিরপুরে থাকলেও স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ির ফ্লাটে থাকতেন আসিফ।

৩৩ বছর বয়সী এই ব্যারিস্টার অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম খানের ছেলে। শহিদুল ইসলাম ১৯৮৬-৯০ মেয়াদে সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি কামারখন্দ) আসনের এমপি ছিলেন।

আসিফের শ্যালক সাইমন শাহিদ নিশাদ জানান, চার বছর আগে আসিফ তার বড় বোন সাবরিনা শাহিদ নিশিতাকে প্রেম করে বিয়ে করেন। আসিফের পরিবার এটি মেনে নেয়নি। এ জন্য আসিফ কাঁঠালবাগান শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন। তাদের কোনো সন্তান নেই।

নিশাদ আরও বলেন, আসিফ ও সাবরিনার সঙ্গে মাঝেমধ্যে পারিবারিক বিষয়াদি নিয়ে ঝগড়া হতো। আসিফ মাদকাসক্ত ছিলেন। চার মাস উত্তরায় একটি রিহ্যাবেও ছিলেন তিনি।

নিশাদের ভাষ্য, গত রাতে আবারও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বাঁধে। একপর্যায়ে আসিফ ৯ তলার বারান্দা থেকে রেলিংয়ের ওপর দিয়ে লাফিয়ে নিচে পড়েন।

সংকটাপন্ন অবস্থায় আসিফকে উদ্ধার করে প্রথমে গ্রিনলাইন পরে স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে আসিফের মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এটি আত্মহত্যা না হত্যাকাণ্ড এ নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত ও তদন্ত ছাড়া এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসা যাবে না।

আসিফের বাবা শহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, আসিফ সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী। মতিঝিলে দেশ ট্রেডিং কর্পোরেশনের লিগ্যাল অ্যাডভাইজার ছিলেন। তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনই শুক্রবার ভোরে খবর দেয় আসিফের অবস্থা ভালো না, তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, পরে এখানে এসে আসিফকে মৃত দেখতে পাই। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। তদন্তে কেউ দোষী হলে তার বিচার দাবি করেন।

কলাবাগান থানার ওসি পরিতোষ জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন করা হয়েছে। আসিফের গায়ে স্পট পাওয়া গেছে। এ ঘটনার তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *