নিজস্ব প্রতিবেদক :

কুমিল্লার হোমনায় বিয়ে বাড়িতে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দুজন গুলিবিদ্ধসহ ২৪ জন আহত হয়েছেন।

রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার ঘারমোরা বাজারে এই সংঘর্ষ হয়।

এদিকে, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে সেখানে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বড় ঘারমোড়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ের বিয়ে ঠিক হয় একই উপজেলার বাগমারা গ্রামের এক ছেলের সঙ্গে। গত শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিয়ের দিন নির্ধারিত হয়। বৃহস্পতিবার রাতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান চলাকালে পাশের হুজুর কান্দি গ্রামের রাসেল ইমরান অন্তর সহ ৮/৯ জন ছেলে গিয়ে মেয়েদের ছবি তুলতে থাকেন। এসময় বড় ঘারমোড়া গ্রামের কয়েকজন ছেলে এসব ছবি ডিলিট করতে বলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এর জের ধরে গতকাল শনিবার সকালে বড় ঘারমোরা গ্রামের আউয়াল মিয়া বাজারে আসলে তাকে মারধর করেন হুজুর কান্দি গ্রামের ছেলেরা।

এ ঘটনায় আওয়াল মিয়ার ভাই জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে হুজুর কান্দি গ্রামের ১৫ জনকে আসামি করে ওইদিন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ হুজুর কান্দি গ্রামের বকুল নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে। এ নিয়ে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।‌

এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ সকাল ৮টার দিকে দুই গ্রামের লোকজন ঘাড়মোড়া বাজারে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত দফায় দফায় চলে এই সংঘর্ষ। সংঘর্ষে দুজন গুলিবিদ্ধসহ ২৪ জন আহত হন। এদের মধ্যে ১২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বড় ঘারমোরা গ্রামের আউয়াল মিয়া বলেন, হুজুর কান্দি গ্রামের কয়েকজন বখাটে ছেলে আমাদের বাড়িতে এসে মেয়েদের ছবি তোলেন। ছবি ডিলিট করতে বলায় তারা উত্তেজিত হয়ে আমাদের গ্রামের লোকজনকে মারধর করেন। শনিবার বাজারে গেলে আমাকে হুজুর কান্দি গ্রামের লোকজন মারধর করেন। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। আজকে সকালে হুজুর কান্দি গ্রামের লোকজন আমাদের গ্রামের লোকজনের উপর হামলা করেন। তাদের গুলিতে দুজন গুলিবিদ্ধসহ আমাদের ১৫ জন্য আহত হয়েছেন।

হুজুর কান্দি গ্রামের গোলাম মোস্তফা বলেন, গ্রামের ছেলেদের নিয়ে সমস্যাটি আমরা মিটমাট করার জন্য চেষ্টা করছিলাম। এই সময় বড় ঘারমোরা গ্রামের লোকজন আমাদের গ্রামের লোকজনের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমাদের ১০/১৫ জনকে আহত করেছেন তারা। আমাদের লোকজন কোনো গুলি চালায়নি। বরং তাদের ইটের আঘাতে আমাদের লোকজন আহত হয়েছেন।

ঘারমোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান মোল্লা বলেন, বৃহস্পতিবার বিয়ে বাড়িতে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে ছেলেদের মধ্যে মারামারি হয়েছে। পরবর্তীতে গত শনিবারও একজনকে মারার ঘটনায় থানায় মামলা হয়। আজকে (রোববার) আমরা বিষয়টি মিটমাট করার জন্য বসলে হুজুর কান্দি ও বড় ঘারমোরা গ্রামের লোকজন নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

হোমনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কায়েছ আকন্দ বলেন, বিয়ে বাড়িতে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। গুলির বিষয়ে আমি বলতে পারবো না। এখন পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *