অনলাইন ডেস্ক:

মহামারী করোনার কারণে বন্ধ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। জানা গেছে, করোনার এই পরিস্থিতির কারণে চলতি বছর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা হচ্ছে না। এর ফলে শিক্ষার্থীদের এবার বার্ষিক পরীক্ষার মাধ্যমে পাস করানোর চিন্তাভাবনা চলছে।

শুধুমাত্র এ বছরের জন্য পঞ্চম শ্রেণির ও ইবতেদায়ির শিক্ষা সমাপনী (পিএসসি) এবং অষ্টম শ্রেণির জেএসসি পরীক্ষা বাতিলের জন্য প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিতে সার-সংক্ষেপ পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন।

জানা যায়, পিইসি পরীক্ষা বাতিলের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত সপ্তাহে এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউসের উপস্থিতিতে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিবের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর ভিত্তিতে উভয় মন্ত্রণালয়ে পৃথক দুটি সারসংক্ষেপ তৈরি হচ্ছে। আগামী রোববারের মধ্যে এটি অনুমোদনের জন্য পাঠানো হতে পারে। দুই মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

শুধু এ বছর পরীক্ষা দু’টি বাতিলের জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য সামারি (সার-সংক্ষেপ) পাঠাচ্ছি। তবে দুই সমাপনী বাতিলের সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের সঙ্গে ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের বৈঠকে এ বছর করোনা পরিস্থিতিতে পরীক্ষা দু’টি বাতিলের প্রাথমিক আলোচনা হয়।

প্রতিবছর নভেম্বরে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনীতে প্রায় ৩০ লাখ এবং অষ্টমের দুই সমাপনীতে আরও ২০ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। সব মিলিয়ে দেশের বিশাল সংখ্যক পরীক্ষার্থী এ দুই পরীক্ষায় অংশ নেয়।

দুই সমাপনী বাতিল করা হলেও স্কুল খোলার পর বার্ষিক পরীক্ষার মাধ্যমে এ বছর মূল্যায়ন করা হবে বলে জানান কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষার সিনিয়র সচিব আকরাম-আল-হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে ক্লাস-পরীক্ষা নেয়া হবে না। পরিস্থিতি যখন স্বাভাবিক হবে তখনই তারা স্কুলে যাবে। যেহেতু কবে প্রতিষ্ঠান খোলা যাবে তা আমরা জানি না। তাই একাধিক বিকল্প হাতে রেখে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা তৈরি কাজ শুরু করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমাপনী পরীক্ষা না হলেও এই স্তরের শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা নেয়া হবে। এই ফলের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের একটি অংশকে মেধাবৃত্তি দেয়ার চিন্তা আছে। শিক্ষাবর্ষ দীর্ঘ না করে বছরের মধ্যেই ছাত্রছাত্রীদের শ্রেণিভিত্তিক লেখাপড়া শেষ করার চিন্তাভাবনা চলছে।

সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া সম্ভব হলে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা নেয়া হবে। আর ডিসেম্বরের মধ্যে তা সম্ভব না হলে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে ‘অটো-পাস’ দিয়ে তুলে দেয়া হবে। এই উভয় ক্ষেত্রেই পাঠ্যবই বা সিলেবাসের যে অংশটুকু পড়ানো সম্ভব হবে না তার অত্যাবশ্যকীয় পাঠ পরের শ্রেণিতে দেয়া হবে।

এজন্য জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ‘কারিকুলাম ম্যাপিং’ করে দেবে। এ লক্ষ্যেই বুধবার এনসিটিবিতে কারিকুলাম বিশেষজ্ঞদের বৈঠক শুরু হচ্ছে। এছাড়া কয়েকদিন ধরে এ নিয়ে ময়মনসিংহে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমিতে (নেপ) বিশেষজ্ঞদের বৈঠক চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *