আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ফ্রান্সের বিরোধী দলের নেত্রী মারিন লো পেন, শুক্রবার নিজের টুইটার একাউন্টে লিখেন, ‘সম্প্রতি বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান ফ্রান্সের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভকারীরা আমাদের রাষ্ট্রদূতের শিরশ্ছেদ করতে চেয়েছে, জাতীয় সুরক্ষার স্বার্থে এই দেশগুলোর অভিবাসীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হোক।

মারিনের এই পোস্টে ফ্রান্সের অনেক সাধারণ মানুষকেও একাত্মতা প্রকাশ করছে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির একাধিক সাংবাদ মাধ্যম।  দেশটির নাগরিকরা তাদের জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে দ্রুততম সময়ে নিষেধাজ্ঞা জারির আহ্বান জানিয়েছে সরকারকে।

অন্যদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ইসলামের নবীকে নিয়ে আঁকা বিতর্কিত ব্যঙ্গচিত্রের কারণে মুসলিমরা কেন এতটা ক্ষুব্ধ হয়েছিল, সেটা তিনি বুঝতে পারেন। তবে এর কারণে সহিংসতার যুক্তি তিনি কোনদিনই মানতে পারবেন না। আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেছেন, মুসলিম বিশ্বে তার কথা নিয়ে যে এরকম তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে, তার কারণ হচ্ছে লোকে ভুল করে ভেবেছেন তিনি নবীর ব্যঙ্গচিত্রকে সমর্থন করেছেন। অথবা তারা মনে করেছেন ফরাসি সরকারই বুঝি এই ব্যঙ্গচিত্র তৈরি করেছে।

দেশটির বিরোধী দলের নেত্রী মারিনের তোলা দাবি নিয়ে ফ্রান্সের সরকার এখন পর্যন্ত কোন মন্তব্য করেননি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিবাসীদের ওপর নজরদারি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এই ঘটনার জের ধরে ফ্রান্সের সঙ্গে মুসলিম দেশগুলোর সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশসহ কিছু দেশে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ম্যাক্রোঁর মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেন। এরপর এরদোয়ানের সঙ্গে বাকযুদ্ধ শুরু হয় ফরাসি প্রেসিডেন্টের।

সূত্র:-লে প্যারিসিয়েন

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *