টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
দ্বিতীয়বারের মতো বিয়ে করার প্রস্তাবের ফাঁদে পা দিতে গিয়ে সাবেক স্বামী ও তার বন্ধুদের কাছে গণধর্ষণের শিকার হয়ে থানায় মামলা করেছেন এক নারী। ঘটনার দুইদিন পর বুধবার রাতে বর্তমান স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে থানায় এসে এই মামলা করেন তিনি।

মামলায় তার সাবেক স্বামী মনির হোসেন (২৫) ও তার তিন বন্ধুকে আসামী করেন ওই নারী। সোমবার রাতে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডে এ গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।

এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্যাতনের শিকার ওই নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, দুই বছর আগে সখীপুর উপজেলার সিলিমপুর গ্রামের রাজমিস্ত্রি মনির হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয় ওই নারীর। ছয় মাস সংসারের পর মনিরকে ছেড়ে আরেক যুবককে বিয়ে করে সে। এতে স্ত্রীর প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে মনির। কয়েক মাস আগে সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে আবারও মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন মনির। দূরত্ব কমে নতুন করে সৃষ্টি হয় প্রেম। একসময় আবারও তাকে বিয়ে করার জন্য ওই নারীকে চাপ দেয় মনির।

সোমবার রাতে দ্বিতীয় (বর্তমান) স্বামীকে না জানিয়ে প্রথম স্বামী মনিরের সঙ্গে পালিয়ে যায় ওই নারী। বিয়ে করার প্রতিশ্রুতিতে পৌর এলাকার ৫ নং ওয়ার্ডের এক বন্ধুর বাড়িতে তাকে নিয়ে যায় মনির। পরে সেখানে থাকা আরও ৩ বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে প্রথম স্ত্রীকে রাতভর পালাক্রমে গণধর্ষণ করা হয়। এই ঘটনার দুইদিন পর বুধবার রাতে বর্তমান স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে থানায় এসে প্রথম স্বামী ও তার তিন বন্ধুদের নামে গণধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন ওই নারী।

এই ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এ এইচ এম লুৎফুল কবির জানান, গৃহবধূর মামলার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত গণধর্ষণই মনে হচ্ছে। এই ব্যাপারে তদন্ত চলছে। আসামীদের দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *