নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্রনীতি ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরীতা নয়’ অনুসরণ করেনই সারাবিশ্বের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে চলেছে বাংলাদেশ। এমন চমৎকার নীতির কারণেই বিশ্ব নেতারা মুজিব বর্ষের অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন, বাংলাদেশের সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করে চলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘৭৫-এর পর তার (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) স্বাধীনতার ঘোষণা, রেসকোর্সের ঐতিহাসিক বক্তব্য এবং ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। তার ভাষণ প্রচারে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা ছিল। সবাইকে আজ ধন্যবাদ জানাই। সবার সহযোগিতায় আজ আমরা সেই সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে পারছি। বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ করতে পেরেছি। আমরা উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।’

শুক্রবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ১০ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার তৃতীয় দিনে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মার্চ মাস বাঙালি জাতির জন্য স্মরণীয় মাস। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যিনি হাজার বছর ধরে পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ বাঙালি জাতিকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম আবাসভূমি এনে দিয়েছিলেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর তৃতীয় দিনের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। মিরপুরের সরকারি পিএইচ সেন্টারের বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ইশারার ভাষায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুক্রবার (১৯ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৪টায় জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে তৃতীয় দিনের অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এদিনের অনুষ্ঠানের থিম ‘যতকাল রবে পদ্মা যমুনা’।

সভাপতির ভাষণে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ১৯৪৮ সালের এই মার্চ মাসের ১১ তারিখে তিনি (বঙ্গবন্ধু) মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বপ্রথম কারাগারে অন্তরীণ হন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ পাকিস্তানি শাসকদের ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয় বাংলা।’ এর সপ্তাহ আড়াই পর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে ঘোষণা করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। সমগ্র জাতিকে নির্দেশ দেন প্রতিরোধ যুদ্ধের। মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করার।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সার্বিক সম্পর্কের চিত্রও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘শ্রীলঙ্কা আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে একই ধরনের মনোভাব পোষণ করে এবং আমরা পরস্পরকে সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে থাকি। প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে বাংলাদেশের একজন অকৃত্রিম বন্ধু এবং তিনি সবসময় বাংলাদেশের পাশে অবস্থান করেন। আমিও চেষ্টা করি সেই বন্ধুত্বের প্রতিদান দিতে। বাংলাদেশের জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের যোগদান তার নিজের এবং শ্রীলঙ্কার জনগণের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কেরই প্রতিফলন।’

‘আমি আশা করি আমাদের দুই দেশের জনগণের মধ্যকার এই বন্ধুত্বের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা কখনও থেমে যাননি, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সংগ্রাম এগিয়ে নিয়ে গেছেন। ভাষা আন্দোলনের পথ বেয়ে স্বাধীনতা পর্যন্ত নিজের পুরোটা জীবন দেশ ও জনগণের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান বাংলার প্রথম ভূমিপুত্র যে কিনা এ দেশের সরকার প্রধান হয়েছেন। তার আগে বা তাকে হত্যার পরে যারা সরকারে এসেছিলেন তারা কেউই এই মাটির সন্তান ছিলেন না।

পঁচাত্তরের পরে যে সরকার এসেছিল, তাদের ভয় ছিল একটি নাম নিয়ে, তা হল বঙ্গবন্ধু। যে কারনে তার নাম মুছে ফেলার চেষ্টাই ছিল তাদের মূল উদেশ্য। তবে, ইতিহাস থেকে কখনো সত্যকে মুছে ফেলা যায় না বলেও জানান শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ায় বিশ্ব নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, বঙ্গবন্ধুর নীতি এবং আদর্শ অনুসরণ করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *