আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

এবার ফ্রান্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লিঁওতে একটি গির্জার যাজকের উপর হামলা চালাল বন্দুকধারী এক যুবক। আহত যাজকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম রয়টার্স।

পুলিশ হামলাকারীকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। তবে হামলাকারীর কোন তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি পুলিশ।

শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে ওই ধর্মযাজক প্রার্থনা শেষে চার্চ বন্ধ করছিলেন। এমন সময় তার ওপর গুলি চালায় হামলাকারী। দুই-দুইবার তাকে গুলি করে। এরপর পালিয়ে যায়। এই ঘটনার পরপরই পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। যদিও পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৭টার দিকে হামলাকারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় তারা।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো জানিয়েছিলেন, গোটা দেশে যে সব জায়গায় ভিড় বেশি সেখানে সেনা মোতায়েন করা হবে। এমনকী উপাসনালয় ও স্কুলের নিরাপত্তাও সুনিশ্চিত করা হবে। বাস্তবে তেমনটাই হয়েছে। তার পরও কীভাবে এমন হামলা হল, তার উত্তর নেই পুলিশের কাছে। সেই যাজকের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিত্সকরা।

পুলিশ জানিয়েছে ওই ধর্মযাজক গ্রিসের নাগরিক। গ্রিস দূতাবাস জানিয়েছে তার নাম নিকোলাস কাকাভেলাকিস।

অন্যদিকে হামলাকারী বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত না জানালেও রয়টার্স জানিয়েছে, হামলাকারী ভূমধ্যসাগরীর অঞ্চলের একটি দেশের। উচ্চতা ৬ ফুট ২ ইঞ্চি। তিনি কালো রেইনকোট ও কালো ক্যাপ পরা ছিলেন। তার রেইনকোটের মধ্যেই শটগানটি লুকিয়ে এনেছিলেন।  এই হামলার কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোন তথ্য এখনো প্রকাশ করা না হলেও ধারনা করা হচ্ছে সম্প্রতি বিশ্বনবীকে নিয়ে ফ্রান্স সরকারের উস্কানিমূলক বক্তবের কারনেই এ হামলার ঘটনা ঘটে।

মহানবী হযতম মুহাম্মাদ (স:) এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের পর মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে ফ্রান্সে তিন-তিনটি হামলার ঘটনা ঘটলো। গেল ১৮ অক্টোবর শ্রেণিকক্ষে মহানবীর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের অভিযোগে এক স্কুল শিক্ষককে গলাকেটে হত্যা করা হয়। এরপর গির্জায় হামলা করে তিনজনকে হত্যা করা হয়। এর দুদিনের মাথায় অর্থডক্স ধর্মযাজকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলো।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *