মোঃ রজব আলী, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলমের হস্তক্ষেপে অবসান ঘটলো, ফুলবাড়ী উপজেলার ৭টি গ্রামের ৯০০ একর ফসলি জমির দীর্ঘ চার বছরের জলাবদ্ধতা।

দীর্ঘ চার বছর জলাবদ্ধতার কারনে ৯০০ একর জমি অনাবাদি থাকার পর, পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা হওয়ায়, হাঁসি ফুটেছে উপজেলার দুইটি ইউনিয়নের ৭ গ্রামের কয়েক হাজার কৃষকের মুখে।

শনিবার (২৪অক্টোবর) সকাল ১০ টায়, উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের বারাইপাড়া গ্রামে পানি নিস্কাশনের ক্যানেল খননকাজের সূচনা করেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম।

এসময় ফুলবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিল্টন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার খায়রুল আলম সুমন, সদ্য যোগদানকারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিয়াজ উদ্দিন, সহকারী কমিশনার ভূমি কানিজ আফরোজসহ উপজেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা, খয়েরবাড়ী ও দৌলতপুরসহ সকল ইউনিয়ন চেয়ারম্যানগণ এবং দির্ঘদিনের জলাবন্ধতায় ক্ষতিগ্রস্থ কয়েক হাজার কৃষক ও ভূমি মালিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, বারাই পাড়া গ্রামের বাসীন্দা জৈনিক হারুনুর রশিদ নামে এক কারিগরি কলেজের প্রভাষক ও তার ১০ থেকে ১২জন অনুসারীদের নিয়ে পানি নিস্কাশনের ক্যানেল খনন কাজে বাধা দিতে গিয়ে জনরোষের মুখে পড়েন। এসময় জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে, জনরোষের মুখ থেকে ওই প্রভাষকসহ তার অনুসারীদের
উদ্ধার করা হয়।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম বলেন মাত্র এক হাজার ফিট একটি ক্যানেলের জন্য দীর্ঘ চার বছর থেকে জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে খয়েরবাড়ী ও দৌলতপুর ইউনিয়নের ৭টি গ্রামের ৯০০ একর জমি, এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ওই ৭ গ্রামের প্রায় কয়েক হাজার কৃষক।

এই খবর পেয়ে জেলা প্রশাসন এই পানি নিস্কাশনের ক্যানেল খননের উদ্যেগ গ্রহন করে, এবং ক্যানেলটির খনন শুরু করা হলো।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার খায়রুল আলম সুমন বলেন দীর্ঘ চার বছর থেকে ৯০০ একর জমি জলাবদ্ধতার কারনে অনাবাদি হয়েপড়ে থাকায় প্রায় ৫০ হাজার টন খাদ্য শষ্য উৎপাদন ব্যহত হয়েছে। এই কারনে এই ক্যানেল খননের উদ্যেগ গ্রহন করে জেলা প্রশাসন। তিনি ক্যানেলটি দুই দিনের মধ্যে খননের কাজ শেষ
করবেন বলে আশাঁ প্রকাশ করেন এবং ক্যানেলটি খননে সকলের সহযোগীতা কামনা করেন।

এদিকে দীর্ঘ চার বছর পর পানি নিস্কাশনের ক্যানেল খনন করায় সস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে খয়েরবাড়ী ও দৌলতপুর ইউনিয়নের ৭ গ্রামের কয়েক হাজার কৃষক। তাদের চোখে-মুখে এতদিনের হতাশা কাটিয়ে এখন হাঁসির ঝলক দেখা দিয়েছে। কৃষকরা জানায় জলাবদ্ধতার কারনে খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব নারায়নপুর, লালপুর, কিসমত লালপুর, উত্তল লক্ষিপুর, মহদিপুর ও দৌলতপুর ইউনিয়নের বারাইপাড়া ও গড়পিংলাই এই ৭টি গ্রামের ৯০০ একর জমি জলাবদ্ধতা হয়ে পড়ে রয়েছে, এতে করে তারা ফসল উৎপাদন করতে না পেরে, তাদের পরিবার অচল হয়ে পড়ে।

আজ জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে পানি নিস্কাশনের পথ তৈরী হওয়ায়, তাদের মধ্যে নতুন আশাঁ জাগিয়েছে। কৃষকরা বলেন দীর্ঘ চার বছর থেকে পানি নিস্কাশনের রাস্তায় বন্ধ করে পুকুর খনন ও জমি ভরাট করে বনজ বাগান করায় এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে তারা পানি স্কিাশনের দাবী জানিয়ে আসছিলেন।

মহদিপুর গ্রামের ৫০উর্দ্ধ বয়সী কৃষক নাজিম উদ্দিন বলেন তার মাত্র ৪বিঘা জমি রয়েছে, কিন্তু গত চার বছর থেকে সেই জমিতে জলাবদ্ধতা থাকায় তিনি আর চাষাবাদ করতে পারছেনা। একই অবস্থা মহদিপুর গ্রামের কৃষক গোলাম রব্বানীর। কৃষক গোলাম রব্বানী বলেন, তিনি পৈত্রিক সুত্রে ৮ বিঘা জমি পেয়েছে, সেই জমি চাষাবাদ করে চলে তার সংসার, গত চার বছর থেকে সেই জমি জলাবদ্ধতার কারনে চাষাবাদ করতে পারছেনা, তাই বাধ্য হয়ে এখন অন্য পেশা করছেন। একই কথা বলেন ওই গ্রামের রুহুল আমিন, আনিছার রহমান পূর্ব নারায়নপুর গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেনসহ অনেকে। লক্ষিপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম বলেন তার মাত্র ৩বিঘা জমি, গত চার বছর থেকে পানিতে তলিয়ে আছে। একই অবস্থা অনান্য গ্রামের কৃষকদের।

খয়েরবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাদের মন্ডল বলেন, দীর্ঘ চার বছর থেকে ৭টি গ্রামের ৯০০ একর জমি পানিতে তলিয়ে থাকায়, অচল হয়ে পড়ে কয়েক হাজার কৃষকের পরিবার। জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে পানি নিস্কাশনের রাস্তা তৈরী হওয়ায়, হাঁসি ফুটেছে ক্ষতিগ্রস্থ কয়েক হাজার কৃষকের মুখে। এই জন্য তিনি ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসককে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *