মো.রজব আলী, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর):

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীসহ আশপাশ এলাকায় মাঝড়া পোকা ও কারেন্ট পোকার আক্রমন এবং পাড়াপোড়া রোগে বসে যাচ্ছে আমন ক্ষেত।
এতেকরে মাথায় হাত পড়েছে আমন চাষিদের। চাষিরা জানায় কৃষি অফিসের দেয়া পরামর্শ অনুযায়ী কিটনাশক ও ঔষুধ ব্যবহার করেও কোন ফল তারা পায়নি। আমন ক্ষেতে একই সাথে মাঝড়া পোকা, কারেন্ট পোকার আক্রমনের সাথে যুক্ত হয়েছে পাড়া পোড়া রোগ। এই কারনে ৪০ ভাগ ফসল ঘরে উঠা কঠিন হয়ে পড়েছে কৃষকের।

এদিকে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা বলছেন, কৃষকেরা কিটনাশক ও ঔষুধ ব্যবহার করতে পদ্ধতিগত ভুলে পোকা ধ্বংশ হয়নি।
যারা সঠিক পদ্ধতিগত ভাবে কিটনাশক ও ঔষুধ ব্যবহার করেছে তাদের ফসল ভাল আছে।

বারকোনা গ্রামের ধানচাষি আক্তার হোসেন বলেন চকচকা মৌজায় তাঁর ৮২ শতক জমিতে জিরা কাঠারী ধানে কারেন্ট ও মাঝড়া পোকার
আক্রমন শুরু হয়েছে। তিনি কৃষি কর্মকর্তাদের দেয়া পরামর্শ অনুযায়ী কিটনাশক ব্যবহার করেও কোন ফল পায়নি। এতেকরে তাঁর ৩০
ভাগ ধানের গাছ কেটে দিয়েছে মাঝড়া পোকা। এছাড়া পাতা পোড়ারোগে তার ভাই আলতাব হোসেনের ধান পুড়ে গেছে, সেই
ধান আর ঘরে উঠা যবেনা, একই কথা বলেন বারকোনা গ্রামের কৃষক এনামুল হকসহ অনেকে।

মধ্য গৌরীপাড়া গ্রামের হাজি ভোলা মিয়া জানায় কানাহার মাঠে তার ৮০ শতাংশ জমির ধানে পাতা পোড়া রোগ দেখা দেয়, বিভিন্ন
প্রকার ঔষূধ ব্যবহার করেও সেই পাতাপোড়া রোগ মুক্ত করতে না পেরে, তিনি সেই ধানের গাছ কেটে গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার
করেছেন।

এদিকে কৃষকের অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলার সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, সঠিক পদ্ধতিতে কিটনাশক ও ঔষুধ
ব্যবহার না করায় কৃষকেরা ক্ষতির শিকার হয়েছে। যে কৃষক কৃষি কর্মকর্তাদের দেয়া পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক পদ্ধতিতে কিটনাশক ও
ঔষুধ ব্যবহার করেছে তাদের ফসলের কোন ক্ষতি হয়নি।

কৃষকেরা জানায় আমন মৌসুমে উৎপাদিত জিরা কাঠারী ধান বিদেশের বাজারে রপ্তানী করা হয়, অথচ সেই জিরা কাঠারী ধানে এইবার বেশি মাঝারী ও কারেন্ট পোকার আক্রমন ঘটেছে, এতেকরে বড় রকএমর লোকশানের মুখে পড়েছে তাঁরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুম্মান আক্তার বলেন এই বছর ১৭৩৩০ হেক্টর জমিতে আমন রোপোনের লক্ষামাত্রা থাকলেও চাষ হয়েছে ১৮৩৫০হেক্টর জমিতে। এর ৪০ ভাগ জমিতে ব্রী-৩৪ জাতের জিরা কাঠারী ধান চাষ হয়েছে। তিনি বলেন কৃষককে পরামর্শ দেয়ার জন্য তিনিসহ সহকারী, উপ-সহকারী সকল কৃষি কর্মকর্তাগণ মাঠে কাজ করছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন অল্পসময়ের মধ্যে এই পোকা ও পাতাপোড়া রোগ থেকে আমন ক্ষেত রক্ষা পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *