কুমিল্লা প্রতিনিধি : 

কুমিল্লার চান্দিনায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এবং সম্পত্তির লোভে গলা, পা ও পেট কেটে কিশোরী মেয়ে সালমা আক্তারকে (১৪) খুন করেছেন তারই বাবা সোলেমান মিয়া ওরফে সোলেমান ব্যাপারী। হত্যার পর সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলা ভাতিজাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাও দায়ের করেন তিনি।

জানিয়েছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) এম.তানভীর আহমেদ।

বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১১টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান। এ সময় জেলা পুলিশের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

তিনি জানান, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিনের মধ্যে রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১ অক্টোবর রাতে উপজেলার গল্লাই ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের নিজ ঘরে কিশোরী মেয়ে সালমা আক্তারকে খুন করা হয়েছিলো। পরদিন বাড়ির পাশের পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর গত মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) ভোরে নিজেকেই হত্যাচেষ্টার ঘটনা সাজান সোলেমান। বর্তমানে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি নজরদারিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। গ্রেপ্তারকৃত দুইজন হলেন- হত্যার পরিকল্পনাকারী সোলেমানের উকিল শ্বশুর আবদুর রহমান ও প্রতিবেশী বন্ধু মো.খলিল।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) এম তানভীর আহমেদ জানান, ঘটনাটি তদন্ত করতে গেলে বাদী ও আসামিদের কথায় গড়মিল পাওয়া যায়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নিহতের বাবা সোলেমানে উকিল শ্বশুর প্রতিবেশী আবদুর রহমান ও খলিল হত্যার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। তাদের পরামর্শে বাবা নিজেই মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

তিনি বলেন, ভাতিজা শাহজালাল ও শাহ কামাল সাথে সম্পত্তি নিয়ে সোলেমানের বিরোধ ছিল। তাদের হত্যা মামলা দিয়ে ফাঁসাতে এবং ভাতিজাদের জায়গা দখলের জন্য নিজ মেয়ে সালমাকে নৃশৃংসভাবে হত্যা করেন। মেয়েটিকে প্রথমে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর গলা, পা, ঘাড় ও পেটে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে লাশ পুকুরে ফেলা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত দু’জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *