নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে হঠাৎ করেই চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে অভিযান চালিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ১০ আড়তদারকে ৭৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে দাম না বাড়ানোর জন্য সতর্কও করে দেওয়া হয়।

গতকাল রবিবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিরিন আক্তার ও উমর ফারুকের নেতৃত্বে পরিচালিত হয় এই অভিযান।

এদিকে ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ আসে দেশের স্থলবন্দর দিয়ে। সেই বন্দরে অভিযান না চালিয়ে শুধু খাতুনগঞ্জে অভিযান চালানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবসায়ীরা।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক বলেন, কয়েক দিন ধরে বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ২০ টাকা বেড়েছে। খাতুনগঞ্জ বাজারে পেঁয়াজের আড়তে সরেজমিনে প্রমাণ মেলে আড়তদাররা পণ্য বিক্রির ব্যাবসায়িক কাগজপত্র নিজেদের কাছে না রেখে আমদানিকারকের ফোনকলে দাম নির্ধারণ করে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। এতে কেজিপ্রতি প্রায় ২০ টাকা অতিরিক্ত মুনাফা করছেন। আর আড়ত অনুযায়ী পেঁয়াজের দামেও ভিন্নতা দেখা যায়।

ক্রয় ইনভয়েস বা রশিদ না রেখে নিজেদের মতো মূল্য বৃদ্ধি করায় মেসার্স বরকত ভাণ্ডার, মেসার্স গোপাল বাণিজ্য ভাণ্ডার, মেসার্স হাজি মহিউদ্দিন সওদাগর, মেসার্স সেকান্দার অ্যান্ড সন্স, মোহাম্মাদীয়া বাণিজ্যালয় ও মোহাম্মদ জালাল উদ্দীনকে ১০ হাজার টাকা করে, গ্রামীণ বাণিজ্যালয়, আরাফাত ট্রেডার্স ও মেসার্স বাগদাদি করপোরেশনকে পাঁচ হাজার টাকা করে এবং শাহাদাত ট্রেডার্সকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিরিন আক্তার বলেন, ‘হঠাৎ করে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির ফলে খুচরা বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। যার ফলে দুই দিক থেকে পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল হচ্ছে। পাইকারি ও খুচরা বাজারে যাতে পেঁয়াজের দাম বেশি না নিতে পারে এ জন্য আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করব।’

খাতুনগঞ্জের আড়তদাররা বলছেন, কোনো কিছুর দাম বাড়লেই সবার আগে অভিযান চলে খাতুনগঞ্জে। অথচ স্থলবন্দর দিয়েই ভারত থেকে এই পেঁয়াজ আসছে। সেই স্থলবন্দরে কোনো অভিযান ও তদারকি নেই। অভিযান নেই ঢাকার মৌলভীবাজারেও।

খাতুনগঞ্জ কাঁচাপণ্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার স্থলবন্দরে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা কেজি। সেই পেঁয়াজ শনিবার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে বিক্রি হয়েছে ৪৩ টাকায়। কিন্তু সেই দামে পেঁয়াজ ক্রেতা ছিল না। ক্রেতা না পেয়ে আজ (গতকাল) সেই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩৭ টাকায়। স্থলবন্দরের বিষয়টি আমলে না নিয়েই আমাদের সবাইকে জরিমানা করা হয়েছে।’

ইদ্রিস দাবি করেন, অভিযান চললে তো প্রথমে স্থলবন্দরের যাঁরা দামে কারসাজি করছেন তাঁদের বিরুদ্ধে চালানোর কথা। কিন্তু সেটি না করে খাতুনগঞ্জে অভিযান চালানো হলো। খাতুনগঞ্জে তো কোনো পেঁয়াজ আমদানিকারক নেই। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়েও সেটি এখন আমদানি হয় না।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *