আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

এখনকার মানুষ নগদ অর্থ বহন করতে চায় না। ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের এই জমানা মানুষকে একটু স্বস্তি দিয়েছে। নগদ অর্থ বহন করতে হয় না বলে ব্যক্তি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সুরক্ষিত। সহজে আর লুট হতে হয় না। কিন্তু দুর্বৃত্তরা তো আর থেমে নেই। নিউইয়র্কেই যেমন ছোট ছোট দোকানে বসানো অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) থেকে অর্থ লুটের বদলে এটিএমই তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। অভিনব এই লুটের ঘটনায় উদ্বিগ্ন এখন নিউইয়র্কাররা।

সম্প্রতি নিউইয়র্ক নগরের একটি ছোট দোকানে থাকা এটিএম তুলে নিয়ে চলে গেছে দুর্বৃত্তরা। আজ রোববার নিউইয়র্ক পোস্ট–এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিউইয়র্ক নগরের ইস্ট ভিলেজ এলাকার ইয়াংকি ডেলি অ্যান্ড গ্রোসারির ভেতরে থাকা একটি এটিএম দুজন লোক তুলে নিয়ে গেছে। এ ধরনের ঘটনা নগরে ইদানীং বেড়ে গেছে।

ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, কালো পোশাক পরিহিত এক লোক এটিএমের সঙ্গে একটি শিকল বাঁধছে। ঠিক একই সময় বাইরে পেছনের দরজা খোলা রাখা একটি পিকআপ ভ্যানে বসে ছিল তার সঙ্গী। পরে ওই গাড়ি দিয়ে টেনে শিকলে বাঁধা এটিএমটি রীতিমতো তুলে নেওয়া হয়। ওই এটিএমে সে সময় কী পরিমাণ অর্থ ছিল, তা নিশ্চিত নয়।

ইয়াংকি ডেলি অ্যান্ড গ্রোসারির মালিক হোসে দারিও কোলাডো বলেন, ‘আমাদের লুট করা হয়েছে, নিঃশেষ করে ফেলা হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ নতুন একটি বিষয়। এভাবে লুট করার ক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই।’

এটিএম এভাবে তুলে নিয়ে যাওয়ায় পুরো দোকানটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হোসে দারিওর ভাষায়, ‘আমরা রীতিমতো বিধ্বস্ত। হাজার হাজার ডলারের ক্ষতি হয়েছে। এর ক্ষতিপূরণ কে দেবে? নগর? মেয়র? ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রশাসন? আমি উত্তর চাই।’

ইউনাইটেড বোডেগাস অব আমেরিকার (ইউবিএ) ফার্নান্দো মাতেওর ভাষ্যমতে, ইদানীং এ ধরনের লুটের ঘটনা বাড়ছে। যদিও নিউইয়র্ক পুলিশ এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি।

ফার্নান্দো মাতেও বলেন, ‘এমন কিছু আমরা এর আগে কখনো দেখিনি। এটি অনেকটা সিনেমার মতো। এটি ভয়াবহ। কোথাও পুলিশের কোনো দেখা নেই। নিউইয়র্ক নগরে প্রয়োজনের চেয়ে পুলিশের সংখ্যা কম। আবার পুলিশের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাও কম, যা খুবই দুঃখজনক।’

এ বিষয়ে ইউবিএ প্রেসিডেন্ট রাদামেস রদ্রিগেজ নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ‘ভয়াবহ এক অপরাধ এটা, যা বোডেগা মালিক ও এর কর্মীদের আতঙ্কিত করে ফেলেছে। দিনে ১৫ ঘণ্টা কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। তারপর যদি কোনো এক সকালে ঘুম থেকে উঠে কাজে গিয়ে দেখা যায়, নিজের কর্মক্ষেত্রটি বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে আছে, তবে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অনেক হয়েছে। এবার মেয়রের উচিত পদক্ষেপ নেওয়া।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *