নিজস্ব প্রতিবেদন:


বৈশ্বিক মহামারীকালে সবার জীবন থেকে এ শতাব্দির অদ্ভুত একটা বছর বিদায় নিল। করোনাকে সঙ্গী করে এবার কি নতুন ভাবনায় নতুন করে পথ চলার পালা? আদৌ কি ঘড়ির টিক টিক শব্দে মুছে যাবে একটা গোটা বছরের সমস্ত দুঃখ কষ্ট ? করোনা যে ভাবে কাছের মানুষকে দুরে সরিয়েছে, যে ভাবে চাকরি কেড়ে নিয়েছে, রোজগার চলে গিয়েছে সব কি ফিরে পাবে মানুষ? উত্তর কি আছে নতুন বছরের ক্যালেন্ডারে ! মৃত মানুষ আর ফিরবে না। ঘুচবে না সেই দুঃখ। কিন্তু জীবনের পথে ছোটাতে হবে জীবন নামের রেল গাড়ি। থামতে পারবে না কেউ। তাই বছরটা শুরু হোক ইতিবাচক ভাবনা নিয়ে। আলোর রোশনাইকে সঙ্গে নিয়ে স্বাস্থ্যবিধিকে মগজে রেখে এগিয়ে চলুন সামনে। তাই ঘড়ির কাটা যখন জানান দেবে আপনি পৌঁছে গিয়েছেন ২০২১ এ, তখনই নতুন উম্মাদনায় নিজেকে যুক্ত করুন আগামী দিনের জীবন সংগ্রামে। আপনি মানেন আর না মানেন বাস্তব সত্যটা হল “পুরোনোর গ্লানি ভুলে নতুনের পথে চলার নামই জীবন”।

মহামারিতে বিপর্যস্ত ২০২০ সালকে বিদায় দিয়ে যাত্রা শুরু হলো ২০২১-এর। ঘড়ির কাটায় রাত ১২টা বাজার সাথে সাথে বিশ্বে প্রথম দেশ হিসেব নতুন বছরকে স্বাগত জানায় নিউজিল্যান্ড। অকল্যান্ডের স্কাই টাওয়ারে আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ আতশবাজির। করোনার কড়াকড়ির মধ্যেই আলোর উৎসব দেখতে জড়ো হন বহু মানুষ।

এরপরই খ্রিষ্টীয় বর্ষবরণের উৎসবে মেতে উঠে অস্ট্রেলিয়া। প্রতি বছরের মতো সিডনি হারবারে ঐতিহ্যবাহী আতশবাজির আয়োজন ছিল এবারও। তবে, সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে নিষিদ্ধ ছিল জনসমাগম। মানুষের উপস্থিতি ছাড়াই হয় আতশবাজি। বাতিল করা হয় মেলবোর্নের অনুষ্ঠান।

নববর্ষকে ঘিরে জাপানে বিভিন্ন মন্দিরে মানুষ সমবেত হয়। খ্রিষ্টীয় নতুন বছর এবং জাপানের রেইয়া যুগের প্রার্থনা করে তারা। জাপানের নিজস্ব প্রাচীন ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সম্রাটদের শাসনের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

করোনার উৎপত্তিস্থল চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে জমকালো আয়োজনের মধ্যদিয়ে বরণ করে নেয়া হয়েছে ২০২১ সালকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনসমাগমে বিধিনিষেধ থাকলেও সেখানে উল্টো চিত্র। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে শহরটিতে জড়ো হন হাজার হাজার মানুষ। উহান ছাড়াও চীনের অন্যান্য শহরেও নতুন বছরকরে বরণ করে নিতে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বর্নিল আতশবাজী আর আলোকসজ্জার মধ্যদিয়ে ২০২১ সালকে বরণ করে নিয়েছে চীনের আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকং। চিরায়ত প্রথা অনুযায়ী দেশটির ভিক্টোরিয়া হারবারে আয়োজন করা হয় আতশবাজির।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *