নিজস্ব প্রতিবেদক:

কাজী সহিদ ইসলাম পাপুল (এমপি) লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম, শ্যালিকা জেসমিন প্রধান এবং মেয়ে ওয়াফা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ বেলা ১১টার দিকে সংস্থাটির উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলায় ১৪৮ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে এমপি পাপুল, তার স্ত্রী সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি কাজী সেলিনা ইসলাম, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিন প্রধানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৩১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ ও ১৪৮ কোটি টাকার লন্ডারিংয়ের অভিযোগও আনা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়,আসামিদের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৩১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ ও ১৪৮ কোটি টাকার লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের আড়ালে জেসমিন প্রধানের পাঁচটি হিসাবের মাধ্যমে ২০১২ সাল থেকে ২০২০ পর্যন্ত লন্ডারিং হয় ১৪৮ কোটি টাকা। অথচ মাত্র বয়স ২৩ বছর বয়সী জেসমিনের নিজের কোনো আয়ের উৎস নেই।

অন্যদিকে এফডিআর হিসাবের ২ কোটি ৩১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৮ টাকার কোনো উৎস শ্যালিকা জেসমিন দাখিল করতে পারেননি। যে কারণে অবৈধ সম্পদের অভিযোগে কাজী সহিদ ইসলাম পাপুল এবং তার স্ত্রী এমপি সেলিনা ইসলাম, শ্যালিকা জেসমিন প্রধান ও মেয়ে ওয়াফা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে তা ভােগ দখলে রাখার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণ হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে দুদক আইন ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারায় অভিযােগ এবং প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং প্রতিরােধ আইনের ২০১২ এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারায় অভিযােগ আনা হয়েছে এজাহারে।

তার বিরুদ্ধে দুদকে পেশ করা অভিযোগে বলা হয়, তিনি কুয়েতে মানব পাচার করে প্রায় এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন করেছেন। হুন্ডির মাধ্যমে ওই অর্থ দেশে আনা ও বিভিন্ন দেশে পাচারের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগে।

মানব ও অর্থ পাচারের অভিযোগে চলতি বছরের জুনে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এমপি পাপুলকে গ্রেপ্তার করে কুয়েতের সিআইডি। তিনি বর্তমানে দেশটির কারাগারে আছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *