নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে যে কোনো বয়সের শিক্ষার্থীদের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির নীতিমালা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এ নীতিকে অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র-শিক্ষকরা।

সিদ্ধান্ত বাতিল করা না হলে সেপ্টেম্বর থেকে দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলনে নামারও হুমকি দিয়েছেন তারা। গতকাল শুক্রবার ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) উদ্যোগে সাংবাদিকদের এক আলোচনাসভায় প্রতিষ্ঠানটির মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. শামসুর রহমান এ হুশিয়ারি দেন।

ইঞ্জিনিয়ার শামসুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষিত নতুন ভর্তি নীতিমালাটি মূলত সফলভাবে পরিচালিত কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের পাঁয়তারা। ২০১৯ সালের আগের নীতিমালা অনুসারে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে হবে, তা না হলে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন ছাত্র-শিক্ষকরা।’

আইডিইবির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার একেএমএ হামিদ বলেন, ‘পিতৃতুল্য কিংবা বড় ভাইয়ের বয়সীদের সঙ্গে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যাপক ফারাকের কারণে শ্রেণিকক্ষের ভারসাম্য নষ্ট হবে। সৃষ্টি হবে সামাজিক ও প্রশাসনিক সমস্যার। তখন শিক্ষকদের পক্ষে শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ রক্ষা সম্ভব হবে না।

ফলে নিয়মিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এ শিক্ষার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। শিক্ষার্থী বৃদ্ধির পরিবর্তে উল্টো হ্রাস পাবে। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা সম্পর্কে বিরূপ ধারণারও সৃষ্টি হবে সমাজে।

তিনি আরও বলেন, ‘বিদেশফেরতদের জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন (এনএসডিএ), বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এনটিভিকিউএফের আওতায় লেভেল ১ থেকে ৬ পর্যন্ত দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে চাকরি ক্ষেত্রে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের সমতুল্য হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

পাশাপাশি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, বিএমইটিসহ ২৩টি আরও কয়েকটি মন্ত্রণালয়, এনজিওর মাধ্যমেও দক্ষতা অর্জনের ব্যবস্থা আছে; যাদের সনদায়ন করে থাকে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। এসব প্রতিষ্ঠানে তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলে দেশ-বিদেশের চাকরির জন্য ও উদ্যোক্তা হওয়ার ব্যবস্থা করাই যুক্তিযুক্ত বলে আমরা মনে করি।

তারপরও যদি বয়স্কদের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াতে হয়, তা হলে মন্ত্রণালয় দেশের ২৯টি সরকারি পলিটেকনিকে পৃথকভাবে শুধু বয়স্কদের জন্য বেছে নিতে পারে। বিকল্প হিসেবে ১১টি সরকারি পলিটেকনিকে সান্ধ্যকালীন কোর্সে তাদের ভর্তি করে ক্লাস চালানো যেতে পারে।’

আইডিইবির সভাপতি বলেন, ‘ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স পরিচালনাকারী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক করে ফেলেছে, যা খুবই হতাশাজনক। ১৫ থেকে ২০ বছর আগে মাধ্যমিক উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কারিকুলামের সিলেবাসভুক্ত বিষয়গুলো অনুধাবন করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।’

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *