আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

নিউজিল্যান্ডের জাতীয় নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন ও তার দল লেবার পার্টি। ১৯৯৩ সালের পর এই প্রথম কোনো একটি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় একক সরকার গঠন হতে যাচ্ছে। তবে এই ঐতিহাসিক জয়ই তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক কলাম লেখক জোশ ভ্যান ভিন।

পার্লামেন্টের ১২০টি আসনের মধ্যে ৬১টির বেশি আসনে জয়লাভ করে একক সরকার গঠন করতে যাচ্ছে লেবার পার্টি। করোনাভাইরাস মহামারির মোকাবেলায় জেসিন্ডার সাফল্যই বিরাট ব্যবধানে জয়লাভের প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে। এর আগে এক মেয়াদের বেশি দায়িত্ব পাবেন না, তাকে ঘিরে এমন ধারণাও প্রচলিত ছিল।

প্রথম মেয়াদে তিনি গ্রিনস ও নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট পার্টির সঙ্গে যৌথভাবে সরকার গঠন করেন। এবার সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাওয়ায় একক সরকার গঠন করতে পারবেন। তবে তিনি কী সিদ্ধান্ত নিবেন, সেটিই দেখার বিষয়। কেননা, ঐক্যমত ও সমঝোতার জন্য তার নেতৃত্ব প্রশংসিত।

নিউজিল্যান্ডের মিশ্র সদস্য আনুপাতিক ব্যবস্থা (এমএমপি) অনুযায়ী ভোটারদের দুটি ভোট দিতে হয়। একটি নিজের পছন্দের দলকে, অন্যটি নির্বাচনী আসনের পছন্দের প্রার্থীকে। সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পেলেও একক সরকার গঠন এই ব্যবস্থার পরিপন্থী, এটিও জেসিন্ডা আরডার্নের বিবেচনায় থাকবে।

২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা এবং দেশটির ভবিষ্যত রাজনৈতিক ব্যবস্থা এর মাধ্যমে প্রভাবিত হবে না, এমন সম্ভাবনাই বেশি। সামনের নির্বাচনে জয়লাভের জন্য লেবার পার্টিকে আবারও গ্রিনস কিংবা অন্য কোনো দলের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার জন্য গ্রিনসের সঙ্গে যৌথভাবে সরকার গঠন করতে পারেন জেসিন্ডা আরডার্ন। তবে তিনি এখনো এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি।

নির্বাচনী প্রচারণায় নীতি সংস্কার ও নতুন নীতি প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দেয় লেবার পার্টি। ২০১৭ সালে জেসিন্ডা আরডার্ন পরিবর্তন বয়ে আনার সরকার পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে এই অঙ্গীকার পূরণে পুরোপুরি সফল হননি তিনি। তার নেতৃত্বাধীন সরকারের শাসনামলেই শিশু দারিদ্র্য ও গৃহহীনতার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও সামাজিক ন্যায়বিচারের ধারণা অনুযায়ী মনে করা হয়, জেসিন্ডা তার কিছু রক্ষণশীল নীতির কারণেই কাঠামোগত বৈষম্য নিয়ে কাজ করবে- এমন মৌলিক নীতি গ্রহণ করতে অপারগ।

তার কিছু রক্ষণশীল নীতির কারণেই নিউজিল্যান্ডের বিপুল সংখ্যক জনগণ বামপন্থী লেবার পার্টিকে ভোট দিয়েছে। তবে অগণিত মধ্যবিত্ত ভোটার ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সকল দাবি-দাওয়া পূরণ বেশ কঠিন হবে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় গ্রিনসের প্রস্তাবিত সম্পদের করের নীতি জেসিন্ডা বাতিল করে দেন, এ ঘটনায় তার অনেক প্রগতিশীল সমর্থকেরা ক্ষুব্ধ হয়।

২০২০ সালের বেশিরভাগ সময় কোভিড-১৯ মোকাবেলায় ব্যস্ত ছিল নিউজিল্যান্ড। দেশটির ৫ মিলিয়ন জনগোষ্ঠীকে একত্রিত করে এই জয়লাভ জেসিন্ডার অসাধারণ দক্ষতার পরিচয়। তবে মহামারির পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসায়, বেকারত্ব ও আবাসন সুবিধার মতো বিষয়গুলো আবারও সামনে এসেছে। ভোটাররা আশা করছেন, জেসিন্ডা আরডার্ন এই সমস্যাগুলো সমাধান করবেন; তবে কাজটি খুব একটা সহজ হবে না।

সূত্র: বিবিসি/টিবিএস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *