ক্রীড়া প্রতিবেদক :

টানা চতুর্থবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নির্বাচিত হয়ে নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছেন, ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশকে পাঁচে উঠাতে চান তিনি। এছাড়া টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও ধারাবাহিক উন্নতি দেখতে চান।

বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন মেয়াদে বোর্ড সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন নাজমুল হাসান। তবে দায়িত্ব গ্রহণ করে নতুন প্রত্যাশা, স্বপ্নের কথা জানাতে পারেননি। এর আগেও র‌্যাংকিংয়ে পাঁচে নেওয়ার কথা বলেছেন। অন্য দুই ফরম্যাটেও ধারাবাহিক উন্নতি চান, এমন কথা জানিয়েছিলেন। ফলে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনটি গেল পুরোনো প্রত্যাশার কথা শুনে।

মিরপুরের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে নাজমুল হাসান বলেন, ‘আসলে এর আগেও বলেছি, বর্তমান যে পরিস্থিতি সেখানে তিন ফরম্যাটের মধ্যে শুধু ওয়ানডেতে (বাংলাদেশ) মোটামুটি ভালো। আমরা ভালো তবে ওই রকম দল হইনি যে বলবো আমরা খুব ভালো। মোটামুটি ভালো। আগের চেয়ে নিশ্চিতভাবেই ভালো। সাত নম্বরে এসেছি। দুটি বিশ্বকাপ জয়ী দলের ওপরে আছি, শ্রীলঙ্কা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তারা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তাদের উপরে এখন পর্যন্ত আছি।’

নতুন করে পুরোনো লক্ষ্যের কথাই বললেন তিনি, ‘আমাদের পরবর্তীতে টার্গেট অবশ্যই পাঁচে যাওয়া। পাঁচ নম্বরে যেতে পারি… ওই জায়গায় যাওয়ার জন্য যে কাজ করতে হবে, সেটা যদি করে যেতে পারি তাহলে সহজে আমাদেরকে কেউ নিচে নামতে পারবে না। সামনের টার্গেটই পাঁচ নম্বরে যাওয়া। এজন্য শক্তিশালী অনেক প্রতিপক্ষ আছে, তাদের উপরে আমাদের উঠতে হবে।’

‘প্রশ্ন করতে পারেন, কেন তিন বা চার নম্বরে না? আমি বিশ্বাস করি যে, এখন যে পরিস্থিতি, সেখানে সাত থেকে পাঁচে উঠাটাই হয়তো সম্ভব। এরপর অন্য পর্যায়। পরের পর্যায়ে যেতে হলে যে পরিমাণ কাজ করতে হবে আমরা এখন পর্যন্ত সেই পরিমাণ কাজ করিওনি। আমাদের সেই সুযোগ-সুবিধার উন্নতি হয়নি। যতই সুযোগ সুবিধা উন্নতি করি না কেন বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট অনেক এগিয়ে গেছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, অন্য দেশও উন্নতি করেছে। ওদের সঙ্গে খাপ খেয়ে চলতে গেলে আমাদের আরও অনেক কিছু করতে হবে। যা করেছি, এখন পর্যন্ত যে সফলতা পেয়েছি এটা ধরে রাখার জন্য অনেক কিছু করতে হবে। এটাই বাস্তবতা।’ – যোগ করেন তিনি।

টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট নিয়ে বোর্ড প্রধান বলেছেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে আমাদের অবস্থান অবশ্যই কোনোভাবে ভালো না, ছিলও না। টি-টোয়েন্টি ও টেস্টে উন্নতি করার সুযোগ রয়েছে। আমাদের করতেও হবে। টি-টোয়েন্টিতে সমস্যা হচ্ছে, এটা পাওয়ার গেম। আমাদের ব্যাটিংয়ে সেই পাওয়ারটা রপ্ত করতে পেরেছি বলে মনে হয় না। আমরা ওতো ভালো না। তবে একেবারেই যে খারাপ তা না। ভালো করার জন্য যেটা দরকার, সেটা নেই। আসলে বোলিং, ফিল্ডিং, ব্যাটি তিনটা বিভাগেই উন্নতি দরকার।’

‘তবে বোলিংয়ে বৈচিত্র্য এসেছে, উন্নতি করেছি টি-টোয়েন্টিতে। ফিল্ডিংটা সাম্প্রতিক সময়ে, কয়েকটা টেস্ট দেখে মনে হয়েছে আগেরটা চেয়ে ভালো। আমি বলছি না, খুব ভালো ফিল্ডিং হয়েছে। তবে আগের চেয়ে ভালো হয়েছে।’ – বলেছেন নাজমুল হাসান।

বিশ্বকাপে অংশ নিতে বাংলাদেশ এখন ওমানে। প্রাথমিক পর্বের তিন ম্যাচ খেলে দলকে কোয়ালিফাই করে খেলতে হবে সুপার টুয়েলভে। নাজমুল হাসানের বিশ্বাস সাম্প্রতিক সময়ের পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে ভালো করতে আত্মবিশ্বাসী থাকবে। তার ভাষ্য, ‘যেহেতু শেষ তিনটা সিরিজ জিতেছে, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেটা বিশ্বকাপে খেলার জন্য সাহায্য করবে। কিন্তু টি-টোয়েন্টি অনিশ্চিয়তার খেলা। কাজেই বলা কঠিন ভালো করতে পারবে কি না। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা সবাই চাই ভালো করুক। তার চেয়েও বড় কথা হচ্ছে, খেলোয়াড়রা অনেকেই বিশ্বাস করে যে তারা ভালো করতে পারে। এই সাহসটা, বিশ্বাসটা দরকার ছিল।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *