হাবিবুর রহমান,নওগাঁ:

নওগাঁয় ছোট যমুনা ও আত্রাই নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বার বার বন্যায় ফসল তলিয়ে যাওয়া এবং নতুন করে লাগানো নিয়ে কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

আর্থিক দিক দিয়েও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা। এতে করে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে। বার বার ফসল হারানোর ফলে চোখেমুখে অন্ধকার দেখছেন এখানকার কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, জেলায় রোপা আমনের আবাদ তিন হাজার ২১৪ হেক্টর জমি পানিতে ডুবে গেছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৬৮ হেক্টর, রানীনগরে ৬৯০ হেক্টর, আত্রাইয়ে এক হাজার ৫৫ হেক্টর, বদলগাছীতে ১০০ হেক্টর, মান্দায় ৫০ হেক্টর, পত্নীতলায় ১০০ হেক্টর, ধামইরহাটে ১৩৯ হেক্টর, সাপাহারে ৭০ হেক্টর, পোরশায় ৫২ হেক্টর, মান্দায় ৭৭৫ হেক্টর এবং নিয়ামতপুরে ১৫ হেক্টর।

কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে নওগাঁর প্রধান দুটি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার মান্দা এবং আত্রাই উপজেলায় আত্রাই নদীতে আগের ভাঙনগুলো দিয়ে পুনরায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে। ফলে রোপা আমনের আবাদ তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।

মান্দা উপজেলায় কসব ইউনিয়নে বনপুরায় আত্রাই নদীর ডানতীরে মূল বাঁধ নুতন করে ভেঙে গেছে। ফলে উপজেলার কসব, নুরুল্যাবাদ ও বিষ্ণপুর ইউনিয়নসহ আত্রাই উপজেলা এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে আত্রাই ও মান্দা উপজেলার পাঁচ স্থানে আত্রাই নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে দুই উপজেলার ১০ ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে করে শত শত পুকুরের মাছ ভেসে যায়।

দ্বিতীয় দফায় আগস্টের শেষের দিকে আবারও নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা দেখা দেয়। এ অবস্থায় নদীর পানি কমে গেলে এবং লোকালয় থেকে পানি নেমে যাওয়ার পর কৃষকেরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তৃতীয় দফায় আবারও বন্যায় রোপা আমন পানিতে তলিয়ে যায়।

মান্দার বিষ্ণপুর ইউনিয়নের দাশপাড়া গ্রামের কৃষক মুনছুর আলী বলেন, গতবার জোতবাজার ও জোকাহাটের চার জায়গায় ভেঙে এলাকায় বন্যায় আমার আড়াই বিঘা ফসল নষ্ট হয়ে যায়। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ধানের চারা কিনে জমিতে রোপণ করা হয়। তার কিছুদিন পর আবার ভাঙা জায়গাগুলো দিয়ে পানি প্রবেশ করে ফসল ডুবে যায়। এতে প্রায় ৮-১০ হাজার টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানি নেমে গেলেও আর রোপা আমনের ধান লাগাব না।

নওগাঁর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফ উজ্জামান খান বলেন, আত্রাই নদীর পানি তিন পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই নদীর ধামইরহাটে শিমুলতলী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার, মান্দার জোতবাজার পয়েন্টে ৪১ সেন্টিমিটার এবং আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জ রেলস্টেশন পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে, নওগাঁ ছোট যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ২৪ সিন্টমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। নতুন করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *